অনেকেরই ঘন ঘন ওয়াশরুমে যাওয়ার অভ্যাস আছে। আবার দিনে খুব কম প্রস্রাব করে থাকেন। কারণ পানি কম পান করলে প্রস্রাব কম হয়। আবার পানি পানে বারবার ওয়াশরুমে যাওয়া হয়, মূত্রত্যাগের প্রবণতা বাড়ে। কিন্তু দিনে কত বার প্রস্রাব হলে তা স্বাভাবিকের পরিসরে থাকবে?এ বিষয়ে কিডনি রোগ চিকিৎসক হর্ষকুমার এইচএন এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন— সাধারণত দিনে আট বার এবং রাতে এক বার প্রস্রাব করাকে স্বাভাবিক বলেই ধরা হয়। কিন্তু রাতে বারবার প্রস্রাব পাওয়া এবং ওয়াশরুমে গেলে খুব কম পরিমাণ প্রসাব হলে তা নিয়ে ভাববার অবকাশ আছে। তবে আট বারের বেশি গেলেই যে তা অস্বাভাবিকের তালিকায় ফেলতে হবে, এমনটি বলছেন না চিকিৎসক।আর প্রস্রাব কতটা হবে, কত বার যেতে হবে, তা কিছুটা মৌসুম এবং তরল খাবার গ্রহণের ওপর নির্ভর করে। কেউ বেশি পানি বা চা-কফি পান করলে প্রস্রাব পেতে পারে। কিন্তু আট বারের চেয়ে খুব বেশি বার যেতে হলে তা নিয়ে সতর্ক হওয়াই ভালো।ঘন ঘন প্রস্রাব হলে কি ডায়াবেটিসের লক্ষণ, না কি তা কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত? এমন প্রশ্ন থাকে অনেকের মনেই। কারণ কিডনি ভালো আছে কিনা, তা অনেক ক্ষেত্রেই বোঝা যায় প্রস্রাবের মাত্রা ও রঙ গন্ধের দ্বারা। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে প্রস্রাবে তার প্রভাব পড়বেই।এ থেকে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। পা কিংবা পেট ফুলতে শুরু করলে অবশ্যই সতর্ক হওয়া জরুরি। আর আচমকা ওজন কমে যাওয়া, বারবার পানির তৃষ্ণা পাওয়া এবং মূত্রত্যাগের প্রবণতাও খুব স্বাভাবিক নয়। ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া সত্ত্বেও প্রস্রাব খুব স্বল্পপরিমাণে হলেও সতর্ক থাকা দরকার। প্রস্রাবের সময় জ্বালা, ব্যথা ও প্রস্রাবে রক্তের উপস্থিতিও স্বাভাবিক নয়। প্রস্রাবের রঙ বদল, ঝাঁঝালো গন্ধ এবং ফেনা হলেও সতর্কতা জরুরি। জ্বর, উচ্চ রক্তচাপ, পেটব্যথা ও শ্বাসকষ্ট আর তার সঙ্গে বারবার প্রস্রাবের প্রবণতা থাকলেও তা কিডনির অসুখের লক্ষণ হতে পারে। এ বিষয়ে চিকিৎসক বলছেন, এ ধরনের উপসর্গের মধ্যে কোনো একটি থাকলেই সাবধান হওয়া প্রয়োজন। মূত্র পরীক্ষা ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায়, আপনার শরীরে সংক্রমণ রয়েছে কিনা। সেই রিপোর্টের ওপর এবং উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা করা হবে। এমএইছ / ধ্রুবকন্ঠ