ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

নোয়াখালীর সালমান: বাঁশের কাপে চা বিক্রি করে মিলছে সাফল্য, মাসিক আয় লক্ষাধিক


প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

নোয়াখালীর সালমান: বাঁশের কাপে চা বিক্রি করে মিলছে সাফল্য, মাসিক আয় লক্ষাধিক


নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের রামপুর এলাকায় বাঁশের কাপে চা বিক্রি করে আলোচনায় এসেছেন তরুণ উদ্যোক্তা মোহাম্মদ সালমান। ব্যতিক্রমী ধারণা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন “বাঁশের চা ফুড স্টেশন” নামে একটি জনপ্রিয় খাবারের দোকান, যেখানে প্রতিদিনই ভিড় করেন শত শত মানুষ। ৯ বছর বয়সে বাড়ির দরজায় ছোট্ট দোকান দিয়ে যাত্রা শুরু করা সালমান আজ সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।


২০১৪ সালে মাত্র একটি ছোট দোকানের মাধ্যমে ক্ষুদে বিক্রেতা হিসেবে পরিচিতি পান সালমান। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার স্বপ্নও বড় হতে থাকে। ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো তিনি নোয়াখালীবাসীর সামনে নিয়ে আসেন বাঁশের কাপে পরিবেশবান্ধব চায়ের ধারণা। যদিও প্রথম উদ্যোগ সফল হয়নি, ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েই থেমে যাননি তিনি। বরং নতুনভাবে চিন্তা করেন, কীভাবে একই আইডিয়াকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা যায়।


দীর্ঘ প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার পর ২০২৫ সালে আবারও নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করে “বাঁশের চা ফুড স্টেশন”। এটি এখন রামপুর ৩ নং ওয়ার্ডের আলী চেয়ারম্যান রোডে জমজমাটভাবে চলছে। এখানে শুধু বাঁশের কাপে চা নয়, সাথে পাওয়া যায় পোড়া রুটি, ব্যাম্বো ফুসকা, বার্গারসহ বেশ কিছু ভিন্নধর্মী খাবার। দোকান চালুর পর থেকেই এটি নোয়াখালী অঞ্চলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শুধু স্থানীয় নয়, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর থেকেও প্রতিদিনই মানুষ ছুটে আসে এই অনন্য স্বাদ নিতে।


দোকানে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ জন ভোজনরসিকের আগমন ঘটে। সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার ভিড় আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৮০০ থেকে ১,০০০ জনে। মাসজুড়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষের সমাগম হয় এই দোকানে। বাড়তি চাপ সামলাতে সালমান তার দোকানে নিয়োগ দিয়েছেন ৮ জন ওয়েটার, যাদের প্রতিজনকে তিনি ৪৫ হাজার টাকা বেতন দিচ্ছেন। নিজের উদ্যোগে অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ায় তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।


পরিবেশবান্ধব এবং ব্যতিক্রমী চিন্তার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই দোকান এখন তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর।


সালমানের সফলতা প্রমাণ করে—স্বপ্ন থাকলে এবং ভুল থেকে শিখে সামনে এগোতে পারলে বড় কিছু অর্জন করাও সম্ভব। বাঁশের কাপে চা বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা আয় করা এই তরুণ এখন এলাকার গর্ব, আর তার উদ্যোগ একটি সফলতার গল্প।

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫


নোয়াখালীর সালমান: বাঁশের কাপে চা বিক্রি করে মিলছে সাফল্য, মাসিক আয় লক্ষাধিক

প্রকাশের তারিখ : ১৬ নভেম্বর ২০২৫

featured Image


নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের রামপুর এলাকায় বাঁশের কাপে চা বিক্রি করে আলোচনায় এসেছেন তরুণ উদ্যোক্তা মোহাম্মদ সালমান। ব্যতিক্রমী ধারণা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন “বাঁশের চা ফুড স্টেশন” নামে একটি জনপ্রিয় খাবারের দোকান, যেখানে প্রতিদিনই ভিড় করেন শত শত মানুষ। ৯ বছর বয়সে বাড়ির দরজায় ছোট্ট দোকান দিয়ে যাত্রা শুরু করা সালমান আজ সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।


২০১৪ সালে মাত্র একটি ছোট দোকানের মাধ্যমে ক্ষুদে বিক্রেতা হিসেবে পরিচিতি পান সালমান। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার স্বপ্নও বড় হতে থাকে। ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো তিনি নোয়াখালীবাসীর সামনে নিয়ে আসেন বাঁশের কাপে পরিবেশবান্ধব চায়ের ধারণা। যদিও প্রথম উদ্যোগ সফল হয়নি, ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েই থেমে যাননি তিনি। বরং নতুনভাবে চিন্তা করেন, কীভাবে একই আইডিয়াকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা যায়।


দীর্ঘ প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার পর ২০২৫ সালে আবারও নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করে “বাঁশের চা ফুড স্টেশন”। এটি এখন রামপুর ৩ নং ওয়ার্ডের আলী চেয়ারম্যান রোডে জমজমাটভাবে চলছে। এখানে শুধু বাঁশের কাপে চা নয়, সাথে পাওয়া যায় পোড়া রুটি, ব্যাম্বো ফুসকা, বার্গারসহ বেশ কিছু ভিন্নধর্মী খাবার। দোকান চালুর পর থেকেই এটি নোয়াখালী অঞ্চলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শুধু স্থানীয় নয়, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর থেকেও প্রতিদিনই মানুষ ছুটে আসে এই অনন্য স্বাদ নিতে।


দোকানে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ জন ভোজনরসিকের আগমন ঘটে। সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার ভিড় আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৮০০ থেকে ১,০০০ জনে। মাসজুড়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষের সমাগম হয় এই দোকানে। বাড়তি চাপ সামলাতে সালমান তার দোকানে নিয়োগ দিয়েছেন ৮ জন ওয়েটার, যাদের প্রতিজনকে তিনি ৪৫ হাজার টাকা বেতন দিচ্ছেন। নিজের উদ্যোগে অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ায় তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।


পরিবেশবান্ধব এবং ব্যতিক্রমী চিন্তার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই দোকান এখন তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর।


সালমানের সফলতা প্রমাণ করে—স্বপ্ন থাকলে এবং ভুল থেকে শিখে সামনে এগোতে পারলে বড় কিছু অর্জন করাও সম্ভব। বাঁশের কাপে চা বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা আয় করা এই তরুণ এখন এলাকার গর্ব, আর তার উদ্যোগ একটি সফলতার গল্প।


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৫ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত