ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

হোয়াইটওয়াশের পর ভারতীয় কোচের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতায়



হোয়াইটওয়াশের পর ভারতীয় কোচের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতায়
ছবি: সংগৃহীত

ঘরের মাঠে টানা ১৮টি টেস্ট সিরিজ জয়ের পর অধপতন হলো ভারতের। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে ব্যবধানে ধবলধোলাইয়ের পর এবার দক্ষিণ আফ্রিকার কাছেও হোয়াইটওয়াশ হতে হয় ভারতকে ২ ব্যবধানে।


কলকাতা টেস্টে ১২৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে  ৯৩ রানে অলআউট হয়ে হেরে যায় টেস্ট ম্যাচ। আর গুয়াহাতে ৫৪৯ রানের বিপরীতে ভারত হেরে যায় রেকর্ড সর্বোচ্চ ৪১৮ রানের বিশাল ব্যবধানে। 

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে এমন হারের পর ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কী হতে যাচ্ছে গম্ভীরের ভাগ্যে?

এখনই কিছুই বলা যাচ্ছে না। তবে সিরিজ হারের পর সংবাদ সম্মেলনে গম্ভীরের সামনে এই প্রশ্নটি উঠেছিল। উত্তর দিতে গিয়ে গম্ভীর বল ঠেলে দিয়েছেন ভারতীয় বোর্ডের কোর্টে, ‘এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিসিসিআইয়ের। ভারতীয় ক্রিকেটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আমি নই। প্রথম সংবাদ সম্মেলনেও কথা বলেছিলাম। আজও একই কথা বলছি।

গম্ভীর টি-টোয়েন্টি দলে অলরাউন্ডার ক্রিকেটারদের পছন্দ করেন। সেই ছাপ পড়ছে টেস্ট দলেও। এই সিরিজে অফ স্পিনার হিসেবে খেলা সুন্দর যেখানে উইকেট নিয়েছেন ১টি, সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার অফ স্পিনার সাইমন হারমার উইকেট নিয়েছেন ১৭টি। সুন্দর যেন ব্যাটসম্যান হিসেবেই খেলেছেন।  

ভারতের সাবেক পেসার ভেঙ্কাটেশ প্রসাদ বলেছেন, ‘ভারতের টেস্ট ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা দেখে সত্যিই হতাশ। সব সময় অলরাউন্ডারের পেছনে ছোটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, বিশেষ করে যখন তাঁদের দিয়ে বোলিংই করানো হয় না। অত্যন্ত বাজে কৌশল, দুর্বল দক্ষতা, নেতিবাচক শারীরিক ভাষা। এসব কারণেই ঘরের মাঠে টানা দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ। এমন তো আগে কখনো ঘটেনি।গম্ভীরের অধীনে ভারত এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছে। অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফিতে ড্র করেছে। সংবাদ সম্মেলনে নিজের সাফল্যের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেছেন, ‘মানুষ ভুলে যায় আমি সেই একই মানুষ, যে ইংল্যান্ডে তরুণ দল নিয়ে ভালো ফল এনেছিলাম (- ড্র) আর আমি নিশ্চিত, খুব তাড়াতাড়ি আপনারা ভুলে যাবেন। কারণ, অনেকেই শুধু নিউজিল্যান্ড ( ব্যবধানে হার) নিয়ে কথা বলে। আমি সেই একই ব্যক্তি, যার কোচিংয়ে আমরা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আর এশিয়া কাপ জিতেছি।গম্ভীরের চুক্তি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা এই সংস্করণকে বিদায় বলে দেন। এরপর তারা টেস্ট ক্রিকেট থেকেও বিদায় নেন। বিদায় নেন আরেক অভিজ্ঞ রবিচন্দ্রন অশ্বিনও। শুবমান গিলকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে - ড্র হওয়া সিরিজের আগে টেস্ট দলের অধিনায়ক করা হয়।

গম্ভীর আরও বলেছেন, ‘আমি কখনো অজুহাত দিই না, অতীতেও দিইনি। কিন্তু যদি দেখেন, এই দলে শীর্ষ আট ব্যাটসম্যানদের মধ্যে চার-পাঁচজনের টেস্ট ম্যাচ সংখ্যা ১৫টিরও কম। খেলতে খেলতে তারা শিখছে। আমি মনে করি না, আগে কখনো টেস্ট ক্রিকেটে এমনটা হয়েছে, যে একই সময়ে ব্যাটিং আর স্পিন-বোলিংদুই বিভাগেই বদল ঘটছে। আমাদের সবাইকে সময় দিতে হবে। আমি নিশ্চিত, ওদের দক্ষতা আছে, প্রতিভা আছে, সামর্থ্যও আছে।

 

এমএইছ/ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : হোয়াইটওয়াশের পর ভারতীয় ভবিষ্যৎ হোয়াইটওয়াশের পর ভারতীয় কোচের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতায়

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫


হোয়াইটওয়াশের পর ভারতীয় কোচের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতায়

প্রকাশের তারিখ : ২৬ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

ঘরের মাঠে টানা ১৮টি টেস্ট সিরিজ জয়ের পর অধপতন হলো ভারতের। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে ব্যবধানে ধবলধোলাইয়ের পর এবার দক্ষিণ আফ্রিকার কাছেও হোয়াইটওয়াশ হতে হয় ভারতকে ২ ব্যবধানে।


কলকাতা টেস্টে ১২৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে  ৯৩ রানে অলআউট হয়ে হেরে যায় টেস্ট ম্যাচ। আর গুয়াহাতে ৫৪৯ রানের বিপরীতে ভারত হেরে যায় রেকর্ড সর্বোচ্চ ৪১৮ রানের বিশাল ব্যবধানে। 

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে এমন হারের পর ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কী হতে যাচ্ছে গম্ভীরের ভাগ্যে?

এখনই কিছুই বলা যাচ্ছে না। তবে সিরিজ হারের পর সংবাদ সম্মেলনে গম্ভীরের সামনে এই প্রশ্নটি উঠেছিল। উত্তর দিতে গিয়ে গম্ভীর বল ঠেলে দিয়েছেন ভারতীয় বোর্ডের কোর্টে, ‘এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিসিসিআইয়ের। ভারতীয় ক্রিকেটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আমি নই। প্রথম সংবাদ সম্মেলনেও কথা বলেছিলাম। আজও একই কথা বলছি।

গম্ভীর টি-টোয়েন্টি দলে অলরাউন্ডার ক্রিকেটারদের পছন্দ করেন। সেই ছাপ পড়ছে টেস্ট দলেও। এই সিরিজে অফ স্পিনার হিসেবে খেলা সুন্দর যেখানে উইকেট নিয়েছেন ১টি, সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার অফ স্পিনার সাইমন হারমার উইকেট নিয়েছেন ১৭টি। সুন্দর যেন ব্যাটসম্যান হিসেবেই খেলেছেন।  

ভারতের সাবেক পেসার ভেঙ্কাটেশ প্রসাদ বলেছেন, ‘ভারতের টেস্ট ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা দেখে সত্যিই হতাশ। সব সময় অলরাউন্ডারের পেছনে ছোটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, বিশেষ করে যখন তাঁদের দিয়ে বোলিংই করানো হয় না। অত্যন্ত বাজে কৌশল, দুর্বল দক্ষতা, নেতিবাচক শারীরিক ভাষা। এসব কারণেই ঘরের মাঠে টানা দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ। এমন তো আগে কখনো ঘটেনি।গম্ভীরের অধীনে ভারত এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছে। অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফিতে ড্র করেছে। সংবাদ সম্মেলনে নিজের সাফল্যের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেছেন, ‘মানুষ ভুলে যায় আমি সেই একই মানুষ, যে ইংল্যান্ডে তরুণ দল নিয়ে ভালো ফল এনেছিলাম (- ড্র) আর আমি নিশ্চিত, খুব তাড়াতাড়ি আপনারা ভুলে যাবেন। কারণ, অনেকেই শুধু নিউজিল্যান্ড ( ব্যবধানে হার) নিয়ে কথা বলে। আমি সেই একই ব্যক্তি, যার কোচিংয়ে আমরা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আর এশিয়া কাপ জিতেছি।গম্ভীরের চুক্তি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা এই সংস্করণকে বিদায় বলে দেন। এরপর তারা টেস্ট ক্রিকেট থেকেও বিদায় নেন। বিদায় নেন আরেক অভিজ্ঞ রবিচন্দ্রন অশ্বিনও। শুবমান গিলকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে - ড্র হওয়া সিরিজের আগে টেস্ট দলের অধিনায়ক করা হয়।

গম্ভীর আরও বলেছেন, ‘আমি কখনো অজুহাত দিই না, অতীতেও দিইনি। কিন্তু যদি দেখেন, এই দলে শীর্ষ আট ব্যাটসম্যানদের মধ্যে চার-পাঁচজনের টেস্ট ম্যাচ সংখ্যা ১৫টিরও কম। খেলতে খেলতে তারা শিখছে। আমি মনে করি না, আগে কখনো টেস্ট ক্রিকেটে এমনটা হয়েছে, যে একই সময়ে ব্যাটিং আর স্পিন-বোলিংদুই বিভাগেই বদল ঘটছে। আমাদের সবাইকে সময় দিতে হবে। আমি নিশ্চিত, ওদের দক্ষতা আছে, প্রতিভা আছে, সামর্থ্যও আছে।

 

এমএইছ/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৫ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত