শীতকালে ত্বক শুষ্ক
হয়ে যাওয়ার সমস্যা সাধারণ। এই সময়ে ঠোঁট ফেটে যাওয়া, ঠোঁটের কোণে ঘা হওয়া এবং
মুখের ভেতর বা জিহ্বায় ছোট সাদা বা লালচে ঘা হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এগুলোকে অ্যাপথাস আলসার বা ক্যানকার সোর বলা হয়। শীতে এই
ধরনের সমস্যা আরো বেড়ে যায় এবং ঠোঁট ও মুখে ঘা হওয়ার জন্য বেশ কিছু কারণ রয়েছে।
শীতে কেন মুখে ঘা হয়?
পানির অভাব বা ডিহাইড্রেশন: শীতকালে আমাদের তৃষ্ণা কম অনুভূত
হয়, যার ফলে পানি কম খাওয়া হয়। শরীরে পানি কম থাকলে মুখের লালা গ্রন্থি শুকিয়ে যায়
এবং মিউকাস মেমব্রেন বা শ্লেষ্মা ঝিল্লি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা মুখে ঘা সৃষ্টি করতে
পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া: শীতকালে সর্দি-কাশি ও
জ্বরের প্রকোপ বাড়ে। এই সময়ে শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে গেলে মুখে
ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে এবং ঘা বা আলসার তৈরি হয়।
খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন: শীতকালে শরীরকে গরম রাখতে অনেকেই অতিরিক্ত
ঝাল, তেল ও মশলাযুক্ত খাবার খান। এসব খাবার পেটের সমস্যা বাড়ানোর পাশাপাশি মুখের
সংবেদনশীল ত্বকে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা ঘা হওয়ার কারণ হতে পারে।
ভিটামিনের অভাব: শীতকালে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসার কারণে শরীরে ভিটামিন বি১২,
আয়রন, জিঙ্ক বা ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি হতে পারে, যা মুখে ঘা সৃষ্টি করতে পারে।
প্রতিকার এবং ঘরোয়া
উপায়:
সাধারণত, মুখের আলসার ৭-১০ দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়। তবে ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে
এবং দ্রুত সুস্থ হতে নীচের কিছু উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে:
পর্যাপ্ত পানি পান করা: শীতেও দিনে অন্তত ৮-১০
গ্লাস পানি পান করুন। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে মুখের লালা নিঃসরণ স্বাভাবিক থাকে এবং
ঘা দ্রুত শুকিয়ে যায়।
মধু ও হলুদের ব্যবহার: এক চিমটি কাঁচা হলুদের গুঁড়োর সঙ্গে অল্প মধু মিশিয়ে আলসার
বা ঘা-এর উপর লাগান। মধু ও হলুদের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং
অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণাগুণ ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
লবণ-পানির গার্গল: হালকা গরম পানিতে অল্প লবণ মিশিয়ে দিনে ২-৩ বার কুলকুচি করুন। এটি
মুখের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং ঘা শুকিয়ে যেতে সাহায্য করে।
গ্লিসারিন বা নারকেল তেল ব্যবহার: ব্যথার জায়গায়
গ্লিসারিন বা নারকেল তেল লাগিয়ে রাখুন। এতে আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং জ্বালা কমে।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
যদি আলসার
২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে, আকারে বাড়ে, অথবা জ্বর ও তীব্র ব্যথা থাকে, তবে
দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।
সূত্র- হিন্দুস্তান টাইমস
.png)
সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রকাশের তারিখ : ২১ নভেম্বর ২০২৫
শীতকালে ত্বক শুষ্ক
হয়ে যাওয়ার সমস্যা সাধারণ। এই সময়ে ঠোঁট ফেটে যাওয়া, ঠোঁটের কোণে ঘা হওয়া এবং
মুখের ভেতর বা জিহ্বায় ছোট সাদা বা লালচে ঘা হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এগুলোকে অ্যাপথাস আলসার বা ক্যানকার সোর বলা হয়। শীতে এই
ধরনের সমস্যা আরো বেড়ে যায় এবং ঠোঁট ও মুখে ঘা হওয়ার জন্য বেশ কিছু কারণ রয়েছে।
শীতে কেন মুখে ঘা হয়?
পানির অভাব বা ডিহাইড্রেশন: শীতকালে আমাদের তৃষ্ণা কম অনুভূত
হয়, যার ফলে পানি কম খাওয়া হয়। শরীরে পানি কম থাকলে মুখের লালা গ্রন্থি শুকিয়ে যায়
এবং মিউকাস মেমব্রেন বা শ্লেষ্মা ঝিল্লি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা মুখে ঘা সৃষ্টি করতে
পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া: শীতকালে সর্দি-কাশি ও
জ্বরের প্রকোপ বাড়ে। এই সময়ে শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে গেলে মুখে
ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে এবং ঘা বা আলসার তৈরি হয়।
খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন: শীতকালে শরীরকে গরম রাখতে অনেকেই অতিরিক্ত
ঝাল, তেল ও মশলাযুক্ত খাবার খান। এসব খাবার পেটের সমস্যা বাড়ানোর পাশাপাশি মুখের
সংবেদনশীল ত্বকে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা ঘা হওয়ার কারণ হতে পারে।
ভিটামিনের অভাব: শীতকালে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসার কারণে শরীরে ভিটামিন বি১২,
আয়রন, জিঙ্ক বা ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি হতে পারে, যা মুখে ঘা সৃষ্টি করতে পারে।
প্রতিকার এবং ঘরোয়া
উপায়:
সাধারণত, মুখের আলসার ৭-১০ দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়। তবে ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে
এবং দ্রুত সুস্থ হতে নীচের কিছু উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে:
পর্যাপ্ত পানি পান করা: শীতেও দিনে অন্তত ৮-১০
গ্লাস পানি পান করুন। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে মুখের লালা নিঃসরণ স্বাভাবিক থাকে এবং
ঘা দ্রুত শুকিয়ে যায়।
মধু ও হলুদের ব্যবহার: এক চিমটি কাঁচা হলুদের গুঁড়োর সঙ্গে অল্প মধু মিশিয়ে আলসার
বা ঘা-এর উপর লাগান। মধু ও হলুদের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং
অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণাগুণ ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
লবণ-পানির গার্গল: হালকা গরম পানিতে অল্প লবণ মিশিয়ে দিনে ২-৩ বার কুলকুচি করুন। এটি
মুখের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং ঘা শুকিয়ে যেতে সাহায্য করে।
গ্লিসারিন বা নারকেল তেল ব্যবহার: ব্যথার জায়গায়
গ্লিসারিন বা নারকেল তেল লাগিয়ে রাখুন। এতে আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং জ্বালা কমে।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
যদি আলসার
২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে, আকারে বাড়ে, অথবা জ্বর ও তীব্র ব্যথা থাকে, তবে
দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।
সূত্র- হিন্দুস্তান টাইমস
.png)
আপনার মতামত লিখুন