ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

আমরা ভিক্ষা আর দয়ায় বাঁচতে চাই না : মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,আমরা ভিক্ষা আর দয়ায় বাঁচতে চাই না, কাজ করে বাঁচতে চাই। সেজন্য প্রশিক্ষণ নিতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ) দুপুরে নিজ নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ আসনের গড়েয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী গণসংযোগে তিনি এ মন্তব্য করেন।  ১৯৭১ সালের ভুলের জন্য জামায়াতকে মাফ চেয়ে জনগণের কাছে ভোট চাইতে বললেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাক সেনাবাহিনী আমাদের ওপর অনেক অত্যাচার করেছে। বাড়িঘর ছেড়ে চলে গেছেন না ইন্ডিয়াতে, বাড়িঘর সবগুলো পুড়ায় দিছিল না। আমার ঠাকুরগাঁও শহরের বাড়িটা ছাড়া কিচ্ছু ছিল না। পেট্রোল পাম্পের আন্ডারগ্রাউন্ডের ট্যাংক সেটাও তুলে নিয়ে গেছিল। আমার বাবার কনস্ট্রাকশন ব্যবসা ছিল, ট্রাকগুলো সেগুলোও তুলে নিয়ে গেছিল। এগুলো ১৯৭১ সালে পাক সেনাবাহিনীরা করেছিল। তখন তাদেরকে কারা সহযোগিতা করেছিল সেটাও আমাদের জানা। মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াত মাফ চাইছে এখন পর্যন্ত ১৯৭১ সালের জন্য। মাফ চান, বলেন ভুল করছি ১৯৭১ সালে, তারপর জনগণের কাছে বলেন এবার আমাদেরকে ভোটটা দেন। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, মাফ তো তারা চায় না, উল্টো আমাদের দোষারোপ করে আমরা কেন ৭১ সালে যুদ্ধ করলাম। যুদ্ধ করছি আমার দেশের জন্য, আমার মাটির জন্য, আমার দেশের স্বাধীনতার জন্য। আমি ওই স্বাধীনতার জন্য আমার জীবন বিসর্জন দিতেও রাজি। বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, নির্বাচনে সততা পালিয়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি সততা ধরে রাখতে। আপনার ভোট বড় আমানত। সেটা আমাকে দেবেন। কারণ আমি আপনাদের চেনা লোক। তিনি বলেন, আমরা ভিক্ষা আর দয়ায় বাঁচতে চাই না, কাজ করে বাঁচতে চাই। সেজন্য প্রশিক্ষণ নিতে হবে। আমাদের ছেলেগুলো শুধু পড়াশোনা করে এমএ-বিএ পাশ করতে চায়, কিন্তু পাশ করে চাকরি পায় না। প্রশিক্ষণ নিয়ে বাইরের দেশে গিয়ে ভালো আয় করা সম্ভব। ছাত্রদের ওইদিকে মনযোগী করতে হবে। সঠিক পথে যেতে হবে। এতে আমাদের উন্নতি হবে। ১৫ বছর এসব কথা আমরা বলতে পারি নাই। আমাদের শুধু পিটিয়েছে আর মামলা দিয়েছে৷ এখন আমরা কাজ করতে চাই। আপনারা সংগঠন গড়ে তুলবেন। সংগঠনের মাধ্যমে আমরা কাজ করতে চাই। এছাড়া সবজি রাখার জন্য কোল্ড স্টোরেজ করা হবে। নারীদের কুটির শিল্পে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁও আমার জন্মস্থান। আমার বাবা, আমি ও আমার ছোট ভাই পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলাম। আওয়ামী লীগের আমলে ছোট ভাই চেয়ারম্যান থাকা সত্বেও তাকে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয় নাই। আমরা কাজ করতে পারি নাই। সরকার চলে যাওয়ায় পর আমরা শহরের রাস্তার কাজগুলো নিয়ে এসেছি। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আপনারা অতীতে ভোট দিয়েছেন এবারও দেবেন। আমরা রাজনীতি করে ব্যবসা করি না। বাপের জমিজমা বিক্রি করে রাজনীতি করি। বাপের জমিজমা যা ছিল অর্ধেক শেষ। এটাই আমার শেষ নির্বাচন, আপনারা আমাকে সুযোগ করে দেবেন। এসময় ঠাকুরগাঁও জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন বিএনপি ও দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।  এমএইছ/ধ্রুবকন্ঠ

আমরা ভিক্ষা আর দয়ায় বাঁচতে চাই না : মির্জা ফখরুল