শনির আখড়া-চিটাগাং রোডে ছিনতাই বৃদ্ধি, প্রশাসনের নীরবতায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ
রাজধানীর
প্রবেশমুখ শনির আখড়া থেকে চিটাগাং রোড পর্যন্ত বিস্তৃত মহাসড়কটি এখন সাধারণ মানুষের
জন্য এক আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ডেমরা এলাকায় ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য
এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একে ‘ছিনতাইয়ের অভয়ারণ্য’ বললেও ভুল হবে না। প্রতিদিন ডজনখানেক
মোবাইল ছিনতাই ও পথচারীদের সর্বস্ব লুটে নেওয়ার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা
ও নিস্পৃহতা জননিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।গত শনিবার
রাত ৯টার দিকে মাতুয়াইল মহিলা মাদ্রাসা বাস স্টপেজে এক ন্যাক্কারজনক ঘটনার শিকার হন
কলেজ শিক্ষক জহিরুল ইসলাম। তিনি চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। পকেট
থেকে মোবাইল বের করে সময় দেখার মুহূর্তেই মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী চোখের পলকে
সেটি ছোঁ মেরে নিয়ে চম্পট দেয়। জনাকীর্ণ স্থানে একজন শিক্ষকের সাথে এমন ঘটনায় স্থানীয়দের
মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।ভুক্তভোগীদের
অভিযোগ, শনির আখড়া, রায়েরবাগ, মাতুয়াইল, সাইনবোর্ড ও চিটাগাং রোড বাস স্টপেজগুলোতে
ওত পেতে থাকে বাইক আরোহী ছিনতাইকারীরা। সুযোগ বুঝে তারা পথচারীদের মোবাইল বা ব্যাগ
কেড়ে নিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে নির্জনতার সুযোগ নিয়ে বাইক থামিয়ে
ধারালো অস্ত্রের মুখে পথচারীদের সর্বস্ব লুটে নেওয়া হচ্ছে।এলাকাবাসীর
দাবি, বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। মহাসড়কের
এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশের দৃশ্যমান কোনো টহল বা তৎপরতা নেই বললেই চলে।
অপরাধীরা নির্বিঘ্নে অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—প্রশাসন কি তবে অপরাধীদের কাছে অসহায়,
নাকি তাদের এই নীরবতা পরোক্ষ প্রশ্রয়?একটি সভ্য
সমাজ এভাবে চলতে পারে না। যেখানে সাধারণ মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিরাপদ বোধ করে না,
সেখানে উন্নয়নের বয়ান অর্থহীন। ডেমরা ও আশপাশ এলাকায় অবিলম্বে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন,
নিয়মিত টহল জোরদার এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ছিনতাইকারী চক্রকে সমূলে উৎপাটন
করার দাবি জানাচ্ছে সচেতন নাগরিক সমাজ।নিরাপদ
সড়ক কেবল কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবে দেখতে চায় সাধারণ মানুষ । অন্যথায়, সাধারণ মানুষের
পুঞ্জীভূত ক্ষোভ যে কোনো সময় বড় ধরনের অসন্তোষে রূপ নিতে পারে।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ