প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
অশান্তি এই রাজনীতি চায় না, আর জনগণা
নাইম তালুকদার ||
বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা যারা রাজনীতি করি । আমরা ভাবতে পারি আমাদেকে
মানুষজন সম্মান দেয়। তা মোটেই না। আজকাল রাজনৈতিক ব্যাক্তিগণকে লোকজন লোক আসে লজ্জার
ভয়ে সরাসরি কিছু না বলতে পারলেও লোকচক্ষুর অন্তরালে গালি বা অভিশাপ ও দিয়ে থাকেন। কারণ
বর্তমান এ সমাজে কিছু সচেতন মানুষজন ছাড়া সিংহভাগ লোকজনেই ৫-ই আগষ্টের পরে নতুন নেতাদের
দ্বারা প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একটি পরিবারের ঘরোয়া বিবাদও রাজনৈতিক মহোদয়গণ
তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। এতে সাধারণ মানুষজন বিপাকে আর বিপদের সম্মুখীন হন। থানা
আর গ্রাম্য সালিশের কথা বাদ-ই দিলাম।আজকাল সব কিছুতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ। ভাইসাহেব গণ আপনারা
যদি সব কিছুতেই আমাদের অগ্রাধিকার অনৈতিক ভাবে প্রয়োগ করেন,। আমরা সাধারণ মানুষ যাবো
কই,। এদেশে আপনারা আপনাদের ফায়দার পাশাপাশি
ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ মানুষজন সব সময় ক্ষতিগ্রস্ত হই। একবার
মনে মনে ভাবি এ দেশে কি সব কিছুর মধ্যে রাজনৈতিক অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তাহলে আমাদের
বাস করার কি প্রয়োজন আছে?। ১৯৭১ সালে কি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধাগণ অকারণে যুদ্ব করেছেন।
আমরা শুধু কাগজে কলমে দেখি , বাংলাদেশ সবার জন্য
স্বাধীন স্বধীন একটি সর্বভূম, বাস্তবে তার উলটো। বিগত ৫- ই আগষ্টের পর অনেকের
ধারনা মতে আমার এ সোনার বাংলার কিছুটা পরিবর্তন আসবে বলে অনেকেই মনে মনে প্রত্যাশা
করেছিলেন। কিন্তু দিন যত অতিবাহিত হলো,আমরা আগের চেয়ে অনেক অন্ধকার দেখেছি। তারপর হয়ে
গেলো আমাদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তারপরও আমাদের নেতাদের খাই,খাই, আর শেষ
হলো না।হরদম গতিতে চলছে তাদের গোপন নৈরাজ্যে। আমরা জানি অন্য অঞ্চলের মানুষদের
চেয়ে আমাদের সুনামগঞ্জের মানুষজন অনেকটাই শান্ত ও ভদ্র,। বিগত দিনে স্বাধীন বাংলার
প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ, জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত,বাবু অক্ষয়
কুমার,স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী, গোলাম জিলানী চৌধুরী সহ
অনেক গুনীজনরা আমাদের এ ভাটি অঞ্চলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাদের দ্বারা এ অঞ্চলের মাটি
ও মানুষের বিন্দুমাত্র কোন ক্ষয়ক্ষতি হয় নাই। নিজের সন্তানের মতো ভাটির জনপদের মানুষজনকে
আগলে রেখেছিলেন। তাদের এই গুণের জন্য শুধু সুনামগঞ্জ বাসী নয়, দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে
তাদের অনেক সুনাম রয়েছে। কিন্তু গতানুগতিক রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের৷ দেখলে সাধারণ মানুষজন
দৌড়ে পালায়।আগেকার মুরুব্বীদের কাছ থেকে যতটুকু শুনেছি, রাজনৈতিক ব্যাক্তিদেরকে
সাধারণ মানুষ ছায়ার মতো ভাবতেন। আর আজকাল বাঘের চেয়েও মানুষজন ভয় পায়। কারণ কি? নিশ্চয়ই কোন গোপনীয় বিষয় আছে। আগেরকার রাজনৈতিক
ব্যাক্তিত্বরা সাধারণ মানুষের উন্নয়নের কথা ভাবতেন আর এখনকার রাজনৈতিক ব্যাক্তিগণ নিজের
পকেট ভাড়ির ধান্ধায় সর্বক্ষণ নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। যেখানে ব্যাক্তির স্বার্থের দিকে
যদি কোন নেতা বা পন্ডিত উদাসীন হয়ে পড়েন, তিনি আর জনগণ নিয়ে কি চিন্তা করবেন। তিনি
নিজের চুলা জ্বালাতে অন্যের লাকড়ি চুরিতে ব্যস্ত থাকবেন। এটাই হলো আজকাল রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের
আসল চরিত্র। আপনি দল করেন ভালো কথা, আপনার দল ও সংগঠন নিয়ে আপনি কাজ করুন, মানুষের
নিরাপত্তা, শিক্ষা, চিকিৎসার জন্য আমাদের দেশের সরকার প্রধান স্ব-স্ব সেক্টরে বিশাল
পরিমাণ বেতন ভাতা দিয়ে লোক নিয়োগ করেছেন। আপনি বিভিন্ন সরকারি কাজে বাম হাত ডুকাতে
আসবেন কেন? আপনার দল কি আপনাকে সব কিছুর দায়িত্ব
দিয়েছে নাকি।আমরা আজকাল সহজেই বুঝি যে কোন দলের বিশাল পদবীর নেতার কথায় নাকি থানা
পুলিশ উঠবস করে। শুনতে আফসোস লাগলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঘটনা একেবারে মিথ্যা ও না।
আজকাল নতুন রাজনৈতিক নেতাদের কারণে আমাদের সুনামগঞ্জের কয়েকটি থানা'র অফিসার ইনচার্জগণ
বড়ই বিপাকে আছেন। যে কোন কারণ অকারণে ওদের টেলিফোনে রীতিমতো ওসিদের দায়িত্ব পালনেও
ব্যাঘাত ঘটে। আমি একজন সাধারণ গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে বিভিন্ন তথ্যের জন্য আমরা থানা
ভবনের দিকে যাই, সন্ধ্যা নামার আগেই ওসি মহোদয়দের অফিসে নেতাদের ভীড়। মাঝে মাঝে নিজেকে
প্রশ্ন করি এটা থানা নাকি কোন উৎসব অঙ্গণ। নিজেদের অনুসারী আর অনুরাগী নিয়ে নেতাগণ
ছুটে চলেন আপন মনে। কিসের ন্যায় আর অন্যায় সব কিছুতেই নেতাদের একতরফা তদবির। উনি আমাদের
দলের লোক। উনি এই ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের সভাপতির ভাই ইত্যাদি। এসব শুনতে শুনতে ওসি সাহেবদের
কান একদম ভাড়ি। ভাইরের সব কিছুতেই যদি নেতা আর দলের দোহাই এ দিয়ে থাকেন,তাহলে আমাদের
মতো সাধারণ মানুষজন যাবো কই।আপনাদের নেতা এবং দল আছে তাহলে কি আপনারা সবার উপরে আমরা
যারা সাধারণ আপনাদের ভোটার আমরা ক্ষতিগ্রস্ত ও হবো, আর আপনাদের তিরস্কার ও শুনবো। আসলেই
কি আমাদের সাধারণ মানুষ হয়ে জন্ম নেওয়াটা পাপ ছিলো, নেতা হয়ে জন্ম নেওয়া উত্তম ছিলো,।থানার
দালালি থেকে শুরু করে মাদক ব্যবস্যা,অবৈধ ভিটে বালু, হাওর রক্ষা বাধ নির্মান, ও ভারতীয়
অবৈধ মালামাল, ফসলী জমি থেকে মাটি কাটার কাজ সহ সকল অবৈধ কাজেই নেতাদের হাত। আজকাল
রাজনৈতিক নেতা মানেই আলাদীনের চেরাগ বা টাকার খনি। নামকাওয়াস্তে কোন দল বা বলয়ের পদবী থাকলেই আজকাল শাহানশাহ,। সব অবৈধ কাজে ছায়া
হয়ে দাড়াতে শতগুণ সাহস পাওয়া যায়। সাদাকে কালো বানিয়ে বাজারজাত করাটা ও দলীয় নেতাদের
জন্য একটু খানি তুড়ি। আমি আমাদের নবাগত প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সিনিয়র জেলা নেতৃবৃন্দের
কাছে আহব্বান করি,আপনাদের দলের লোকজনের খবর নিন। উনার সোর্স কি?...। আর উনি কি
করেন, রাজনৈতিক কোন নেতাদের তো মাসিক বেতন ভাতা ও নেই। কিন্তু হঠাৎ করে আমার এলাকার
নেতাদের এতো পরিবর্তন,। প্রশ্ন রেখে গেলাম।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত