প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মৃত্যু দিয়ে শুরু হয়েছিল যে প্রেম: জানুন ভালোবাসা দিবসের ইতিহাসা
নাগিব মাহফুজুল হক ফাহিম ||
আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এই দিনটি নানান আয়োজনের
মধ্য দিয়ে শুরু হয় যেমন: কার্ড দেওয়া, প্রিয় মানুষকে ফুল দেয়া, ঘুরতে বের হওয়া, উপহার দেওয়া। এই দিনটি পালন করা শুরু হওয়া নিয়ে অনেক ইতিহাস রয়েছে। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামের একজন শহিদের সম্মান জানাতে খ্রিষ্টধর্মীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল। এই দিনটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হতে শুরু করে মূলত অষ্টাদশ
শতাব্দীর পর থেকে।ভালোবাসা দিবসের ইতিহাসবিশ্ব ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস নিয়ে এক এক জনের এক এক মতামত রয়েছে। কেউ ভাবে রোমান সভ্যতার
যুগে ফাল্গুনের শুরুর দিকে বা ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ‘ফেব্রুয়ালিয়া’ বা ‘লুপারকালিয়া’ নামে একটি উৎসব পালিত হতো, সেখান থেকেই এই দিনটি এসেছে।আবার অনেকের মতে, রোমের সম্রাট কালে, যখন রোমের সম্রাট ক্লডিয়াসের
শাসনে ছিল। তার ধারণা ছিল, পুরুষদের বিয়ে করলে শক্তি কমে যায় এবং তারা যুদ্ধে মনোযোগ
দিতে পারে না। তাই তিনি রাজ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ করেন। তবে খ্রিস্টান ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইন যুবকদের গোপনে বিয়ে দিতেন। যখন সম্রাট এই খবর জানতে
পারলেন, সম্রাটের
নির্দেশ অমান্য করায় তাকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় তার সাথে কারারক্ষীর
এক অন্ধ মেয়ের পরিচয় হয়।
প্রচলিত
আছে যে, সেন্ট ভ্যালেন্টাইন তার অলৌকিক
ক্ষমতায় মেয়েটির চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছিলো। এই ঘটনা দেখে রোমের সম্রাট আরও ক্ষিপ্ত হন এবং ২৬৯ বা ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ফাঁসি দেওয়ার আগে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন মেয়েটির জন্য একটি চিঠি
লিখে যায়, যেখানে লিখা ছিল ‘ইতি, তোমার ভ্যালেন্টাইন’। সেখান থেকেই তাকে ঘিরে এই দিনটি পালন করে আসছে মানুষ।ইতিহাসের অন্য একটি ভাষ্য মতে, ২৬৯ খ্রিস্টাব্দে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামক একজন চিকিৎসক ছিলেন। দয়ালু চিকিৎসক হিসেবে তার অনেক খ্যাতি ছিল। তিনি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তার স্মরণেই ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে পোপ জেলাসিয়ুস ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেন।রোমের সম্রাট ক্লডিয়াস অভিযোগ করেন
সেন্ট ভ্যালেন্টাইন অনেকের সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছে। ফলে তাকে কারাগারে
বন্দি করা হয়। বন্দী থাকা অবস্থায় তিনি কারাগারের এক দৃষ্টিহীন মেয়েকে চিকিৎসার মাধ্যমে
সুস্থ করে তোলেন। এর পেছনে আসল সত্যি ছিল আরও ভয়াবহ, সেই অন্ধ মেয়েকেও ইনি অবৈধ সম্পর্ক
ছাড়া ছাড়েন না। সেখান থেকে তার জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়। যার ফলে ১৪ই ফেব্রুয়ারি
তাকে রাজা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে তার স্মরণে ১৪ ফেব্রুয়ারি
দিনটাকে ‘ভ্যালেন্টাইন’ দিবস ঘোষণা করা হয়।বাংলাদেশের
প্রেক্ষাপটে: ভালোবাসা দিবসবাংলাদেশে ভালোবাসা দিবসের শুরু হয়
১৯৯৩ সালে ‘যায় যায়’ দিন পত্রিকার মাধ্যমে। এই পত্রিকার সাংবাদিক শফিক রেহমান। তিনি এই পত্রিকার মাধ্যমে
বাংলাদেশের মানুষ এর কাছে এই দিনের কথা উল্লেখ করেন। শফিক
রেহমানকে
বাংলাদেশে
ভালবাসা
দিবসের
জনক
বলা
হয়। কারন বাংলাদেশে ভালোবাসা
দিবসের
উপাধি তিনি প্রথম
ব্যবহার
করেন। জানা যায়, তিনি
তার অফিসের সামনে সড়কটিরও নামকরণ করেন লাভ রোড এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন টেলিভিশন ও নিউজ মিডিয়ায় তার প্রচারণার
কারণে এবং বাণিজ্যিক কারণে এ দিবসটি জনপ্রিয়তা লাভ করে।বর্তমানে বাংলাদেশের তরুণ-সমাজ
এই দিনটিকে ব্যপকভাবে উদযাপন করে। এই দিনটিতে বন্ধু-বান্ধব, স্বামী-স্ত্রী, মা-সন্তান,
প্রেমিক-প্রেমিকা একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাস করে। এই দিনে বাংলাদেশের বিভিন্ন
পার্ক ভালবাসার মানুষ দ্বারা পূর্ণ থাকে। কিন্তু এই দিনটার প্রভাব শহরে যেমনটা উৎসবমুখি
হয়, গ্রামগঞ্জে এ দিনটির তেমন কোন প্রভাব পরে না।তবে এই দিনটি পালন নিয়ে মানুষের
মতামত অনেক ভিন্ন। কেউ মনে করেন, এ দিনটি উদ্যাপন করা উচিৎ নয় কারন এটি সংস্কৃতি এবং
ইসলাম ধর্মীয় বিরোধী।এই দিনটাকে কেন্দ্র করে ৭ দিন ব্যাপী
বিভিন্ন দিন উদযাপন করা হয়-৭ ফেব্রুয়ারি: এই দিন দিয়ে শুরু
হয় ভালবাসার সপ্তাহ। এই দিনে তরুণ-সমাজ তাদের প্রিয় মানুষদের গোলাপ উপহার দেয়।৮ ফেব্রুয়ারি: ভালোবাসা প্রেম সব
কিছুর শুরু কিছু কথার মাধ্যমে। যা মানুষ প্রিয় মানুষকে বলতে পারে না। তার জন্য এই দিনের
অপেক্ষা সবাই করে কারন এই দিনেই মনের ভিতরের সকল জানা অজানা কথা বলে ভালবাসার প্রস্তাব
দেয়া হয়।৯ ফেব্রুয়ারি: ভালোবাসা মানেই এক
মিষ্টি মুহূর্ত। এই দিনে তরুণ-সমাজ তাদের ভালবাসার মানুষদের চকলেট উপহার দেয়।১০ ফেব্রুয়ারি: এই দিনে ভালবাসার
মানুষকে পুতুল উপহার দেওয়া হয়। কারন একটা মানুষের কাছে তার ভালোবাসা এক পুতুলের মতো।১১ ফেব্রুয়ারি: যদি ভরসা দিতেই
না পার তাহলে কিসের ভালোবাসা, কিসের প্রেম, যাকে ভালোবাসো তাকে ভরসা দাও। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাই ভালবাসার পরিচয়।
এই দিনে ভালবাসার মানুষ টাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।১২ ফেব্রুয়ারি এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি
হচ্ছে হাগ ডে আর কিস ডে।১৪ ফেব্রুয়ারি: এই দিনটি হচ্ছে
বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।ভালোবাসা পবিত্র। যদি তুমি ভালবাসতে জানো। ভালোবাসা এই নয় শুধু যে
আমার প্রেমিকা খুব সুন্দর। ভালোবাসা একটা অনুভূতি, যা একটা মানুষ এর মন থেকে আসে।
যাকে ভালোবাসো তাকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভালোবেসে যাও, তাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা কর। ভালোবাসা সুন্দর শুধু
এই দিন নয় সারা বছর ভালোবাসো। বেছে থাকুক পৃথিবীর সকল ভালোবাসা।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত