প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ক্ষমতার সন্নিকটে তারেক রহমানা
ধ্রুবকন্ঠ ডেক্স ||
প্রায় দুই দশক পর লন্ডন থেকে দেশে ফেরার মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সন্নিকটে
তারেক রহমান—ঠিক
যেমন একসময় দেশ শাসন করেছিলেন তার বাবা-মা। আজ মঙ্গলবার (ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জনমত জরিপের পূর্বাভাস সত্যি হলে, বৃহস্পতিবারের নির্বাচন ৬০ বছর বয়সী এই শান্তস্বভাব নেতার জন্য হবে এক বিস্ময়কর প্রত্যাবর্তন। তিনি
২০০৮ সালের
১১ সেপ্টেম্বর সপরিবারে লন্ডন যান। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন তার দল বিএনপির প্রধান
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সেই রাজনৈতিক
পটপরিবর্তনের পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে তারেক রহমান পান রাজকীয়
অভ্যর্থনা।ক্ষমতা হারানোর পর শেখ হাসিনা
এখন ভারতেই অবস্থান করছেন। শেখ হাসিনা
ও তারেক
রহমানের মা
খালেদা জিয়া
দীর্ঘদিন ধরে
বাংলাদেশের
রাজনীতিতে প্রভাব
বজায় রাখা করেছিলেন।
তার বাবা
জিয়াউর রহমান
ছিলেন বাংলাদেশের
স্বাধীনতা যুদ্ধের
অন্যতম নেতা;
যিনি ১৯৭৭
থেকে ১৯৮১
সাল পর্যন্ত
দেশ শাসন
করেন।বৈদেশিক সম্পর্কের
ক্ষেত্রে তারেক রহমানের পরিকল্পনা হলো একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি। তিনি চান বিদেশি বিনিয়োগ
বাড়ুক, তবে বাংলাদেশ যেন নির্দিষ্ট কোনো দেশের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে।
এটি শেখ
হাসিনার নীতির বিপরীত, যিনি দিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলে বিবেচিত ছিলেন।তিনি দরিদ্র পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খেলনা ও চামড়াজাত পণ্যের মতো শিল্পে জোর দেওয়ার কথা বলেছেন এবং স্বৈরাচারী প্রবণতা ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দুই মেয়াদে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সীমা প্রস্তাব করেছেন।কার্ডিওলজিস্ট স্ত্রী ও ব্যারিস্টার কন্যাকে নিয়ে ঢাকায় ফেরার পর থেকে ঘটনাপ্রবাহ এত দ্রুত ঘটেছে যে, নিজের সময় কীভাবে কেটেছে তা ভাবারও সুযোগ পাননি বলে জানান তিনি।বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে কন্যা জায়মা রহমানকে পাশে নিয়ে তারেক রহমান রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের বলেন, আমরা দেশে আসার পর প্রতিটি মিনিট কীভাবে কেটেছে, আমি নিজেও জানি না।১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্ম তারেক রহমানের। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও তা শেষ করেননি। পরে তিনি বস্ত্র ও কৃষিভিত্তিক ব্যবসায় যুক্ত হন।দেশে ফেরার পর তারেক রহমান নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন; যিনি শেখ হাসিনার শাসনামলে নিজের পরিবারের ওপর হওয়া নিপীড়নের ঊর্ধ্বে উঠে সামনে তাকাতে চান।তিনি বলেন, ‘প্রতিশোধে কী আসে? প্রতিশোধের কারণে মানুষকে দেশ ছাড়তে হয়। এতে কোনো ভালো কিছু হয় না। এই মুহূর্তে আমাদের দেশের জন্য প্রয়োজন শান্তি ও শান্তি-শৃঙ্খলা।’শেখ হাসিনার শাসনামলে তারেক রহমান একাধিক দুর্নীতি মামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হন এবং অনুপস্থিতিতেই কয়েকটি মামলায় দণ্ডিত হন। ২০০৪ সালে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ২০১৮ সালে তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি সব অভিযোগ বরাবরই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সব মামলায় তিনি খালাস পান।লন্ডনে বসে তিনি দেখেছেন, কীভাবে একের পর এক নির্বাচনে তার দল কোণঠাসা হয়েছে, শীর্ষ নেতারা কারাগারে গেছেন, কর্মীরা নিখোঁজ হয়েছেন, দলীয় কার্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে।দেশে ফিরে তিনি সংযত ও পরিমিত ভাষায় কথা বলছেন, উসকানিমূলক বক্তব্য এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং সংযম ও সমঝোতার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি ‘রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানা’ ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কথা বলছেন—যা নতুন সূচনার আশায় থাকা বিএনপি সমর্থকদের প্রাণবন্ত করেছে। তারেক রহমানের পরিবারে রয়েছে সাইবেরিয়ান জাতের আদুরে বিড়াল ‘জেবু’, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। জেবুকে নিয়ে তারেক রহমানের মেয়ে জায়মা রহমান বলেন, ‘ওর বয়স সাত বছর। ও আধা সাইবেরিয়ান।’দলের ভেতরে তারেক রহমানের নিয়ন্ত্রণ দৃঢ়। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রার্থী নির্বাচন, কৌশল নির্ধারণ ও জোট আলোচনা; সবই তিনি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন, যা একসময় তিনি বিদেশ থেকে করতেন। তারেক রহমানের ভাষায়—গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও তা টিকিয়ে রাখাই হবে তার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমেই আমরা সমৃদ্ধ হতে পারি এবং দেশ পুনর্গঠন করতে পারি। গণতন্ত্র থাকলে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা যায়। তাই আমরা গণতন্ত্র চর্চা করতে চাই, আমরা আমাদের দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে চাই।’
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত