প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কেউ কেউ বিরিয়ানি-নগদ টাকার বিনিময়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে: গোলাম পরওয়ারা
ধ্রুবকন্ঠ ডেক্স ||
আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, ভয়ভীতি, নারী ও সংখ্যালঘু
ভোটারদের হুমকি, কালো টাকা বিতরণ এবং সাইবার হামলার অভিযোগ তুলেছেন খুলনা-৫
(ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সেক্রেটারি
জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।গোলাম
পরওয়ার বলেন, ‘দিনমজুর, গরিব মানুষ, সংখ্যালঘু নারীদের ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে
দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ বিরিয়ানি আর নগদ টাকার বিনিময়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে। এটা
নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন’।আজ বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার
দিকে খুলনা প্রেসক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গোলাম
পরওয়ার এ অভিযোগ করেন। এরই সাথে অনুষ্ঠানে তিনি নিজের নির্বাচনী ইশতেহারও ঘোষণা
করেন।মিয়া
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু
ও উৎসবমুখর নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হলেও মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন। নির্বাচনের এখনো
এক সপ্তাহ বাকি থাকলেও প্রার্থী, কর্মী ও ভোটারদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি চলছে।
মাঠপর্যায়ে ভয়াবহ অনিয়ম ও সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর
ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। জামায়াতের নারী কর্মীদের লাঞ্ছনার অভিযোগ তুলে
সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা
চালাতে গেলে নারী কর্মীদের বোরকা ও মুখের কাপড় টেনে খোলা হচ্ছে এবং প্রতিবাদ করলে
শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ওপরও হামলার অভিযোগ
আছে’।সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, খুলনা-৫ আসনের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিলে তাদের মারাত্মক পরিণাম ভোগ করতে হবে বলে শাসানো হচ্ছে। এমনকি নির্বাচনী প্রচারণার কোনো সভায় অংশ না নিতেও তাদের ওপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরাসরি সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে যে, জামায়াতের সভায় যোগ দিলে বিপদের মুখে পড়তে হবে।গোলাম
পরওয়ারের অভিযোগ করেন, কিছু এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাবেক জনপ্রতিনিধিদের
জোর করে বাড়ি থেকে তুলে এনে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
এটা ভোট নয়, জোর করে রাজনৈতিক অবস্থান চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
নিজের
নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার
বলেন, ‘ফুলতলা ও ডুমুরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নির্ধারিত সভা-সমাবেশে
পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। একাধিক স্থানে চেয়ার-টেবিল ভেঙে সভা ভন্ডুল করা
হয়’।
সংবাদ সম্মেলনের
মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কালো টাকা ও ভোট কেনাবেচার অভিযোগ।
তিনি
বলেন, ‘খুলনা-৫ আসনে সংগঠিতভাবে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ঢালছে একটি পক্ষ। উপজেলা,
ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক কোটা নির্ধারণ করে বাড়ি বাড়ি টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে’।
আইনশৃঙ্খলা
পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রতিটি থানার কাছে সন্ত্রাসী ও
অপরাধীদের তালিকা থাকা সত্ত্বেও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কিংবা পরিচিত সহিংস ব্যক্তিদের
গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই’।
সংবাদ
সম্মেলনে সাইবার হামলার অভিযোগও তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি হচ্ছে
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং পরবর্তী সময় তাঁর
নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে।
একই
প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, তদন্তে একটি সরকারি দপ্তরের একজন কর্মকর্তার
ই-মেইল থেকে ভারতীয় উৎসের ভাইরাস ব্যবহার করে এই হ্যাকিং করা হয়েছে বলে তাঁদের
সাইবার টিম শনাক্ত করেছে। এ ঘটনায় সাইবার আইনে মামলা করা হয়েছে এবং ডিবি পুলিশ
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ল্যাপটপসহ আটক করেছে। ওই কর্মকর্তাকে ছাড়িয়ে নিতে
উচ্চপর্যায়ে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে মুক্তি দিতে
পারেনি।
খুলনা-৫
আসনে মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৫০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে
চিহ্নিত করেছেন দাবি করে গোলাম পরওয়ার জানান, এসব কেন্দ্রে ভোটারদের ভয় দেখানো,
কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই ও আগাম ব্যালট সরানোর আশঙ্কা আছে।
সংবাদ
সম্মেলনের শেষাংশে জামায়াত প্রার্থী নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে কালো টাকা
বিতরণ বন্ধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং প্রার্থী ও ভোটারদের
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ
সম্মলনে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা আমির এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সি
মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও গওসুল
আজম, খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহসভাপতি আবুল খায়ের ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক
শেখ জাকিরুল ইসলাম।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত