প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানের বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণে নিহত ১া
ধ্রুবকন্ঠ ডেক্স ||
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বন্দর আব্বাসে আজ শনিবার এক বিস্ফোরণে
অন্তত একজন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় একজন কর্মকর্তা ইরানের সংবাদ
সংস্থাগুলোকে এ তথ্য জানিয়েছেন। কিন্তু বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।ইরানি গণমাধ্যম জানায়, বিস্ফোরণের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কিন্তু তারা বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, এ ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি তারা।ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে দাবি করেছিলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী
গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর কমান্ডারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। কিন্তু এ
দাবি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।ইরান ভিত্তিক সংবাদ মতেহরান টাইমস জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে
তদন্ত চলছে। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমটি এ বিষয়ে পরে আর কোনো তথ্য জানায়নি।
বিস্ফোরণের ঘটনা সম্পর্কে জানতে ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রয়টার্সের
পক্ষে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।এদিকে ইরাক সীমান্তবর্তী ইরানের আহভাজ শহরে শনিবার গ্যাস–সম্পর্কিত
বিস্ফোরণের পৃথক এক ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তেহরান টাইমস। তাৎক্ষণিক
এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ইসরায়েলের দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন,
ইরানে আজকের বিস্ফোরণের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পৃক্ততা নেই।বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের দিকে বিশাল একটি মার্কিন নৌবহর (আর্মাদা) এগিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার অনেকগুলো সূত্র রয়টার্সকে জানায়, ট্রাম্প ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে লক্ষ্যস্থল করার পাশাপাশি দেশটির বিরুদ্ধে আর কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা যাচাই করে দেখছিলেন।শনিবার ভোররাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপীয় নেতারা ইরানের অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে অস্থিরতা উস্কে দিচ্ছে ও ‘জাতিকে ছিন্নভিন্ন করার’ লক্ষ্যে উপকরণ সরবরাহ করছে।ইরানে এমন একসময়ে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের
মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের দেশব্যাপী সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও পারমাণবিক কর্মসূচি
নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার বলেন,
যুদ্ধজাহাজের একটি নৌবহর (আর্মাদা) ইরানের দিকে যাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার একাধিক
সূত্র জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ভাবছেন ট্রাম্প। এসব
বিকল্পের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলাও রয়েছে।আজ শনিবার সকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন,
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইউরোপীয় নেতারা ইরানের অর্থনৈতিক সমস্যার সুযোগ
নিচ্ছেন, বিশৃঙ্খলা উসকে এবং জনগণকে ‘দেশকে টুকরো টুকরো করার’ প্ররোচনা দিচ্ছেন।হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত
বন্দর আব্বাস কনটেইনার ওঠানামার দিকে থেকে ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
সমুদ্রবন্দর। হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের মধ্যে অবস্থিত। বিশ্বের সমুদ্রপথে যত
জ্বালানি তেল সরবরাহ হয়, সেটার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হয় এ প্রণালি দিয়ে।গত এপ্রিলে বন্দর আব্বাসে একটি বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। এতে ২০
জনের বেশি মানুষ নিহত এবং এক হাজারের বেশি আহত হয়েছিলেন। নাগরিক নিরাপত্তা ও
সুরক্ষা নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল বলে ওই সময়
এক তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।অর্থনৈতিক দুরবস্থা ঘিরে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে তেহরানের
গ্র্যান্ড বাজারে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। দ্রুত তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভ থেকে ধর্মীয় শাসনের অবসানের দাবি ওঠে। সরকার শক্ত হাতে বিক্ষোভ দমন করে। ইরানের
এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নিহত
হয়েছেন। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ৫০০ সদস্য রয়েছেন।পৃথক ঘটনায় আহভাজে ৪ জনের মৃত্যুঅন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘তেহরান টাইমস’-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরাক সীমান্তবর্তী আহভাজ শহরে একটি গ্যাস বিস্ফোরণে চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা সম্পর্কেও বিস্তারিত আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।ইসরায়েলের দু’জন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, শনিবারের এই বিস্ফোরণগুলোর সঙ্গে ইসরায়েল কোনোভাবেই জড়িত নয়। বর্তমানে দেশজুড়ে বিক্ষোভ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।উল্লেখ্য, গত ২২ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে একটি নৌ-বহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার বেশ কিছু সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সুনির্দিষ্ট হামলার মতো বিকল্প ব্যবস্থাগুলো বিবেচনা করছেন।অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও বিক্ষোভশনিবারের শুরুর দিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইউরোপীয় নেতারা ইরানের অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোকে কাজে লাগিয়ে অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে এবং জাতিকে ‘ছিন্নভিন্ন’ করার চেষ্টা করছে।গত ডিসেম্বর থেকে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইরানে দেশব্যাপী তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যা দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।একজন ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৫০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। সূত্র: রয়টার্স এমএইছ/ধ্রুবকন্ঠ
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত