প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
ঝিকরগাছায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে, আহত ১০া
ধ্রুবকন্ঠ ডেক্স ||
যশোরের
ঝিকরগাছায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের
মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। এতে অন্তত ১০ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে
ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি)
দুপুরে উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায়
উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরে বিকেলে পৌর শহরে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জামায়াতের নারী সদস্যরা।যশোরের ঝিকরগাছায় নির্বাচনী
প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আজ শনিবার দুপুরে গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের
শ্রীচন্দ্রপুর গ্রামে মহিলা জামায়াতের কর্মীরা 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকের প্রচারণা
চালাচ্ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা তাদের বাধা দেন এবং
অশালীন আচরণ করেন।ঘটনার খবর পেয়ে যুব জামায়াত ও
শিবিরের কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। একপর্যায়ে
প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র ও রড নিয়ে হামলা চালালে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে রূপ
নেয়। এই অতর্কিত হামলায় জামায়াতের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন।
বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং শান্তি রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।ঝিকরগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক বায়তুল মাল সম্পাদক মুস্তাকিম হাসান অভিযোগ করে বলেন, গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের শ্রীচন্দ্রপুর গ্রামে আগে থেকেই বিএনপির কিছু নেতাকর্মী জোট পাকানোর চেষ্টা করছিল। এ সময় সেখানে জামায়াতের মহিলা কর্মী এবং তারা দাঁড়িপাল্লার ভোট চাইতে গেলে তাদের উপর হামলা করা হয়। এতে মুস্তাকিম হাসান, যুব জামায়াত কর্মী জহিরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন আহত হন।ঝিকরগাছার সংঘর্ষের ঘটনায় এবার
ভিন্ন এক দাবি সামনে এনেছে স্থানীয় বিএনপি। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনী উত্তেজনার
মাঝে জামায়াত কর্মীরা 'বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট' সদৃশ বিশেষ পোশাক পরে তাদের
নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।বিএনপির দাবি অনুযায়ী, এই
অস্বাভাবিক পরিস্থিতি এবং জামায়াত কর্মীদের আক্রমণ ঠেকাতেই তারা পাল্টা প্রতিরোধ
গড়ে তুলতে বাধ্য হন। এই সম্মুখ প্রতিঘাত থেকেই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে, যা পরবর্তীতে
রণক্ষেত্রে রূপ নেয়বিএনপি নেতাদের মতে, এটি কোনো
সাধারণ বাগবিতণ্ডা ছিল না, বরং জামায়াত কর্মীদের উসকানিমূলক আচরণের ফলেই পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পাল্টাপাল্টি এমন অভিযোগে বর্তমানে এলাকায় রাজনৈতিক
অস্থিরতা আরও ঘনীভূত হয়েছে।যশোর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবিরা নাজমুল মুন্নী জানান, জামায়াত কর্মীরা বুলেটপ্রুপ জ্যাকেটের মতো পোশাক পরে প্রস্তুতি নিয়ে এসে আমাদের কর্মীদের উপর হামলা করেছে। তারাই ঘটনার সূত্রপাত করেছে।এদিকে দুপুরে এই ঘটনার পর বিকেলে
ঝিকরগাছা বাজারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াতে ইসলামীর নারী সদস্যরা। উপজেলা মোড়ে অবস্থিত দারুল উলুম কামিল মাদরাসা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ঝিকরগাছা বাসস্ট্যান্ড ঘুরে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।যশোরের ঝিকরগাছায় সংঘটিত এই
রাজনৈতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানায় ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
(ওসি) দেওয়ান মোহাম্মদ শাহজালাল আলম। সংঘর্ষের ভয়াবহতা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি
থাকলেও ওসির দাবি, উভয় পক্ষের মধ্যে মূলত সামান্য ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। খবর
পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্ষম হয়।
বর্তমানে সেখানকার পরিবেশ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, ঠিক কী
কারণে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত
রয়েছে।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত