প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
বিয়ের দাবিতে অনশনরত তরুণীকে মারধর, হাসপাতালে ভর্তি ও চাঞ্চল্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক, নীলফামারী প্রতিনিধি ||
গর্ভস্থ সন্তানের পিতার স্বীকৃতির দাবিতে স্বামীর বাড়ীতে অবস্থান নেওয়া তরুণীকে শারিরীকভাবে নির্যাতন করে জোর পূর্বক তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের খালিশা খুটামারা ৩ নং ওয়ার্ডে।অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তদন্তে জানা যায়, খুটামারা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড কিসামত বটতলা কুটিপাড়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের কন্যা বেবিনা আক্তারের সাথে একই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড খালিশা খুটামারা গ্রামের মাদরাসা শিক্ষক আব্দুস শুকুরের পুত্র তৌফিকুর রহমান সম্রাটের দীর্ঘদিন যাবত প্রেমের সম্পর্কের পরিণতিতে গত অক্টোবর মাসে উভয়ে ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে গিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।বিয়ের পরে সম্রাট তার স্ত্রী বেবিনাকে বিয়ের বিষয়টি কিছুদিনের জন্যে গোপন রাখতে বলে যেনো পরিবারের সম্মতি আদায় করে তাকে ঘরে তুলতে পারে। কিন্ত এর মধ্যেই বেবিনা অন্তঃসত্তা হয়ে পড়লে সে সম্রাটকে ঘরে তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। স্ত্রীর গর্ভে তার সন্তান আসার খবরে সম্রাট তালবাহানা করতে থাকে এবং বেবিনার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। নিরুপায় হয়ে বেবিনা আক্তার গত ২৫ ডিসেম্বরে সম্রাটের বাড়ীতে এসে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে সম্রাট বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে যায়। ছেলে বিয়ে করেছে এবং ছেলের বউ বাড়ীতে এসে ওঠায় সম্রাটের বাবা মা এবং তার ভগ্নিপতি ওবায়দুর রহমান তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে এবং বেবিনাকে বাড়ী থেকে বের করে দেওয়ার জন্যে শারিরীক ও মানসিক সব রকম নিপীড়ন চালাতে থাকে। বেবিনা কোনোভাবেই বাড়ী ছেড়ে যেতে সম্মত না হলে পাড়া প্রতিবেশীর পরামর্শে বেবীনাকে আপাততঃ পাশের বাড়ীতে থাকতে দেওয়া হয়।সেখানে প্রায় ১১ দিন যাবত অবস্থান করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় গত ০২ জানুয়ারী তারিখে বেবিনা আবার সম্রাটের বাড়ীতে গিয়ে অবস্থান নিলে সম্রাটের বাবা আব্দুস শুকুর, তাঁর স্ত্রী এবং জামাতা মিলে বেবিনাকে মারধোর করতে থাকলে স্থানীয় লোকজন ইউপি চেয়ারম্যানকে জানায় এবং ইউপি চেয়ারম্যান রকিবুল ইসলাম সাহেব একজন চৌকিদার পাঠিয়ে অসুস্থ বেবিনাকে উদ্ধার করে তার বাবা মা'র কাছে পাঠিয়ে দেন। পরদিন ০৩ জানুয়ারি সকাল বেলা বেবিনা আবারও তার সন্তানের পিতৃত্বের দাবিতে সম্রাটের বাড়ীতে এলে সম্রাটের বাবা মা এবং ভগ্নিপতি ওবায়দুর রহমান বেবিনাকে ব্যাপক মারধোর করে এবং তার গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট করে ফেলার উদ্দেশ্যে তার পেটে সম্রাটের মা লাথ্থি মারেন বলে অভিযোগ করেছে বেবিনা আক্তার। এ বিষয়ে জলঢাকায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হলে এসআই শামীম গিয়ে বেবিনাকে সম্রাটের বাড়ী থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্যে জলঢাকা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। এসআই শামীম জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে বেবিনা আক্তার জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে তার গর্ভের সন্তানের পিতৃ পরিচয় নিশ্চিত করতে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছে।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত