প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬
হলুদ সাংবাদিকতার তীব্র নিন্দা ও সতর্কবার্তা দিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমিরা
মো: সালমান ফারসী, ঢাকা প্রতিনিধি ||
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে
ভারতের কোনো গোপন বৈঠক হয়নি—এমন দাবি করে এ সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা
জানিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে তিনি গভীর মর্মাহত বলেও জানিয়েছেন।সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভারত যেহেতু বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ, সে কারণে তাদের সঙ্গে
কোনো যোগাযোগ বা বৈঠক হয়েছে কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি সঠিক ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা
দেন। তিনি জানান, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে অসুস্থতা থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরার পর দেশি-বিদেশি
বহু ব্যক্তি ও কূটনীতিক তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। অন্যান্য দেশের কূটনৈতিকদের
মতো সে সময় ভারতের দুজন কূটনীতিকও তাকে দেখতে আসেন।ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বা
রাষ্ট্রীয় বৈঠক ছিল না; বরং একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ মাত্র। অন্যান্য কূটনীতিকদের সাক্ষাতের
বিষয় যেমন প্রকাশ করা হয়েছিল, ভারতীয় কূটনীতিকদের সাক্ষাৎও প্রকাশ করার আগ্রহ জানানো
হয়েছিল। তবে ওই কূটনীতিকরা সে সময় বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন। তখনই তিনি
জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে যদি দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়, তা
অবশ্যই জনসমক্ষে আনা হবে এবং সেখানে গোপনীয়তার কোনো অবকাশ নেই।এমন অবস্থায় দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে “জামায়াত আমিরের সঙ্গে
ভারতের গোপন বৈঠক” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে এ ধরনের সংবাদ
পরিবেশন জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং সাংবাদিকতার নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “হলুদ সাংবাদিকতা একটি জাতির জন্য
ভয়ানক। এতে শুধু ব্যক্তি বা সংগঠনের নয়, দেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
তিনি ভবিষ্যতে দায়িত্বশীলতা ও সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশনের জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর
প্রতি আহ্বান জানান।এ ঘটনায় গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বলে
মনে করছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদের প্রচার সাংবাদিকতার মৌলিক
নীতির পরিপন্থী এবং এটি সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত