প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
থানায় যুবলীগ নেতাকে ছাড়াতে না পেরে সাংবাদিকদের ওপর হামলাা
ধ্রুবকন্ঠ ডেক্স ||
শরীয়তপুরের সখিপুরে যুবলীগ নেতাকে ছাড়াতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে থানা চত্ত্বরেই সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এসময় দুই সাংবাদিককে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। গত
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতরা হলেন, দৈনিক নয়া-দিগন্তের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রাসেল শিকদার ও এশিয়ান টেলিভিশনের স্থানীয় প্রতিনিধি রুহুল আমীন জুয়েল। ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অপারেশন ডেভিল হান্টের অংশ হিসেবে শনিবার সন্ধ্যায় আটক করা হয় ভেদরগঞ্জ উপজেলার উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেনকে। থানা হেফাজতে থাকাকালে তাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় আসেন সখিপুর থানা বিএনপির সদস্য সচিব মাজহারুল ইসলাম সরদার ও তার কয়েকজন সহযোগী। এ সময় তিনি আটক হওয়া যুবলীগ নেতা আক্তার হোসেনকে ছেড়ে দিতে বলেন পুলিশকে। এ নিয়ে থানার ভেতরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত সাংবাদিক রাসেল শিকদার, রুহুল আমিন জুয়েল পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ছবি তুলেন। একপর্যায়ে বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে হামলা চালায় এবং মারধর ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা। পরে, পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে, আহতদের উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। আহত সাংবাদিক রাসেল শিকদার বলেন, আমরা জানতে পারি আটক যুবলীগ নেতাকে ছাড়াতে থানায় এসে বিএনপি নেতারা হট্টগোল করছে। পরে আমিসহ আমার দুজন সহকর্মী থানায় গিয়ে বিষয়টি জানার চেষ্টা করি। পরবর্তীতে, তথ্য সংগ্রহ করে আমি ভেতর থেকে বের হয়ে থানা ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় হঠাৎ করেই মাজহারুল ইসলাম সরদারসহ কয়েকজন আমাদের দিকে তেড়ে আসে। মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে এবং মারধর করে। সাংবাদিক রাসেল শিকদার আরও বলেন, আমাদের জন্য তিনি ওই যুবলীগ নেতাকে ছাড়াতে পারেননি। থানার মতো একটি জায়গায় সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা খুবই ভয়ংকর ও লজ্জাজনক। আমরা এই ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আহত অপর সাংবাদিক রুহুল আমীন জুয়েল বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকে ছাড়াতে না পেরে বিএনপি নেতা আমাদের ওপর চড়াও হয়। আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয় এবং কিল-ঘুসি মারা হয়। এর সুষ্ঠু বিচার চাই আমরা। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। আওয়ামী লীগের দোসরদের পক্ষে বিএনপির কেউ থানায় গিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানাই। আমি খোঁজ খবর নিয়ে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিবো। এ বিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দীন বলেন, অপারেশন ডেভিল হান্টে শনিবার সন্ধ্যায় এক যুবলীগ নেতাকে আটক করা হয়। পরে তাকে ছাড়াতে এসেছিলেন বিএনপি নেতা মাজহারুল ইসলাম। আমি তাকে বলেছি তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া ছাড়তে পারবো না। এটা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে। এটা দুঃখখজনক। এ সময়, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
/ধ্রুবকন্ঠ
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত