প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ নভেম্বর ২০২৫
মাছ শিকারে গিয়ে নিখোঁজ ১৩ জেলে: ১২ দিনেও নেই সন্ধানা
ধ্রুবকন্ঠ ডেক্স ||
ভোলার লালমোহন উপজেলা
থেকে সাগরে মাছ শিকারে গিয়ে ১২ দিন ধরে হদিস নেই ১৩ জেলের।গত ১০ নভেম্বর উপজেলার
ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফারুক মাঝির মা-বাবার দোয়া নামে একটি ট্রলিং
বোটে জেলেরা সাগরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। যাত্রার ৬ দিনের মধ্যে তাদের আবার
তীরে ফেরার কথা থাকলেও ১২ দিন অতিবাহিত হলেও তাদের খোঁজ পাচ্ছেন না স্বজনরা।নিখোঁজ
জেলেরা হলেন লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দলিল মাস্টার
বাজার এলাকার মো. মাকসুদুর রহমান, মো. খোকন, মো. হেলাল, মো. শামিম, মো. সাব্বির,
মো. সজিব, মো. জাহাঙ্গীর, মো. নাছির মাঝি এবং একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের
বাতিরখাল এলাকার আব্দুল মালেক, মো. ফারুক, মো. মাকসুদ, মো. আলম মাঝি ও মো. ফারুক।ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দলিল মাস্টার বাজার এলাকার নিখোঁজ জেলে
মো. খোকনের স্ত্রী রিপা বেগম বলেন, আমার স্বামী নদী-সাগরে মাছ শিকার করে টাকা উপার্জন
করতেন। তার আয় দিয়ে দুই সন্তান এবং আমার শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে সুন্দরভাবে সংসার চালাত।
কিন্তু সাগরে মাছ শিকারে গিয়ে এখন আমার স্বামীর কোনো খোঁজ নেই। তিনি একা নন, তার সঙ্গে
ছিলেন আরো ১২ জন। তাদের কারো কোনো খোঁজ নেই। তাদের সঙ্গে কি হয়েছে
তা জানি না। এখন কেবল দোয়া করি সবাই যেন নিরাপদে থাকেন এবং আমাদের মাঝে ফিরে আসেন।নিখোঁজ
আরেক জেলে হেলালের স্ত্রী মিতু বেগম বলেন, স্বামী বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময়
বলেছিলেন আমি যেন নিজের এবং সন্তানের খেয়াল রাখি। তাকে
বলেছিলাম আমি বাবার বাড়ি যাব। তিনি বলেছেন সাগর থেকে ফিরে তিনিসহ একসঙ্গে যাবেন। এখন
তারই কোনো খোঁজ নেই। তাকে ছাড়া সন্তানসহ আমার এবং বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির কি হবে? কিভাবে
চলব আমরা। আমার স্বামীকে ফিরে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি। মাকসুদুর
রহমান নামে নিখোঁজ আরেক জেলের ছেলে মো. নয়ন জানান, সাগরে মাছ শিকারে যাওয়ার পর সর্বোচ্চ
৬ দিনের মধ্যে সবার ফেরার কথা। তবে এখন ১২ দিন হয়ে গেছে, এখনো কেউ ফেরেনি। যার জন্য
তাদের খুঁজতে শনিবার একটি ট্রলারে করে সাগরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন আত্মীয়-স্বজনরা।
আমার বাবাসহ বাকি জেলেদের সন্ধান না পাওয়ার বিষয়টি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট
গার্ড ও থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে তারা এখন কী অবস্থায় রয়েছেন বা তাদের সঙ্গে
কী ঘটেছে তা আমাদের কারো জানা নেই। এ বিষয়ে লালমোহন থানার
পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাসুদ হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগ বা জিডি
করেননি। তবু আমরা বিষয়টি জানার চেষ্টা করব।
লালমোহন
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আখন্দ জানান, জেলেদের নিখোঁজের সংবাদটি আমরা
পেয়েছি। তবে কতজন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন তা এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি। আমরা বিভিন্ন
মাধ্যমে ওইসব জেলেদের অবস্থান জানার চেষ্টা করছি।
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত