প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফরিদপুর থানা পুলিশের অভিযানে শিশু হত্যার মূল আসামী গ্রেফতার এবং ছিনতাই হওয়া ব্যাটারী চালিত অটোভ্যান উদ্ধার
মোঃ আরিফুল ইসলাম, পাবনা প্রতিনিধি ||
পাবনা জেলার ফরিদপুর থানার মামলা নং- ০৮, তারিখ- ১৩/০৯/২০২৬ ইং; ধারা- ৩৯৪/৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড। ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ মামলার বাদীর মেজো ছেলে ডিসিষ্ট মোঃ সাকিব আল হাসান (১৩), পিতা- মোঃ হারিজ উদ্দীন (৩৬), সাং-রতনপুর, থানা- ফরিদপুর, জেলা- পাবনা ইং ১৩/০৯/২০২৬ তারিখ সকাল অনুমান ০৬.০০ ঘটিকায় প্রতিদিনের ন্যায় বাদীর অটোভ্যানগাড়ী (যাহার বডি হলুদ রংয়ের উপর সবুজ রংয়ের প্রিন্ট করা, পেছনে ভাই ভাই লেখা রয়েছে, যার মূল্য অনুমান ৫০,০০০/- টাকা। নিয়ে ডেমরা বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা করে। পরবর্তীতে বাদী দুপুর অনুমান ০২:৩০ ঘটিকায় তাঁহার স্ত্রীর নিকট জানতে পারেন যে, তাহার ছেলে মোঃ সাকিব আল হাসান এখনও বাড়িতে আসে নাই। পরবর্তীতে বিকাল ০৪ঃ০০ ঘটিকায় ডেমরা বাজারে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বিকাল অনুমান ০৫ঃ১০ ঘটিকার বাদীর সংবাদ পান যে, ফরিদপুর থানাধীন ডেমরা ইউনিয়নের মাজাট গ্রামস্থ মাজাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাজাট কবরস্থানের মাঝামাঝি জনৈক জব্বার মোল্লার জমি সংলগ্ন বড়াল নদীর কিনারায় একটি ছেলে শিশুর লাশ পানিতে ভেসে আছে। পরবর্তীতে তিনি ঘটনাস্থলে এসে লাশ সনাক্ত করেন । ডিসিষ্টের পিতা মোঃ হারিজ উদ্দীন (৩৬), পিতা- মোঃ আজিম গালী, সাং- রতনপুর, থানা- ফরিদপুর, জেলা- পাবনা বাদী হয়ে ফরিদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করিলে সংক্রান্তে সূত্রোক্ত মামলাটি রুজু হয়।অভিযান কার্যক্রমঃ মামলাটি এসআই/মোঃ আরিফুল ইসলাম তদন্ত করেন। মনজুরুল হাসান মাসুদ, অফিসার ইনচার্জ, ফরিদপুর থানা, পাবনার নেতৃত্বে মামলার মূল রহস্য উদঘাটন পূর্বক হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত মূল আসামীকে সনাক্তকরন এবং গ্রেফতারের লক্ষ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ফরিদপুর থানা পুলিশের একটি চৌকশ টীম ঘটনাস্থল এলাকার আশপাশের একাধিক সিসি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন এবং সোর্স নিয়োগের মাধ্যমে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেন। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এবং বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামীকে সনাক্ত করা হয়। এবং পরবর্তীতে অফিসার ইনচার্জ এর নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত), মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই(নিঃ)/মোঃ আরিফুল ইসলামসহ , এসআই(নিঃ)/জাহিদুর রহমান বাদল, এসআই(নিঃ)/মোঃ ওয়াজেদ আলী, এসআই(নিঃ)/নূর মোহাম্মদ সরকার ফরিদপুর থানা পুলিশের একটি চৌকশ টীম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ইং ১৪/০৯/২০২৬ তারিখ দুপুর অনুমান ১৪ঃ৩০ ঘটিকায় ফরিদপুর থানাধীন দিঘুলিয়া বাজার হইতে হত্যাকারী মোঃ শাহিন আলম ইমন (২৮) কে গ্রেফতার করেন। পরবর্তীতে হত্যাকারীর দেয়া জবানবন্দী ও তথ্য মোতাবেক ফরিদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এর নেতৃত্বাধীন টীম ফরিদপুর থানাধীন ধানুয়াঘাটা বাজার এলাকায় আসামী মোঃ মুক্তার হোসেন (৪৫) এর ভাঙ্গাড়ীর দোকান হইতে ছিনতাইকৃত অটোভ্যানটি উদ্ধার পূর্বক মোঃ মুক্তার হোসেনকে থানায় নিয়ে আসলে বাদী উদ্ধারকৃত উক্ত অটোগাড়ীটি তাঁর নিজের গাড়ি মর্মে সনাক্ত করেন। আসামীদের ১৬৪ ধারা মোতাবেক জবানবন্দী রেকর্ডের জন্য বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।গ্রেফতারকৃত আসামীদের নাম ও ঠিকানাঃ ১) হত্যাকারী মোঃ শাহিন আলম ইমন (২৮), পিতা-মৃত আবুল প্রামানিক, পালক পিতা- শাহআলম, সাং-কালিয়াকৈর (আকন্দপাড়া), থানা-উল্লাপাড়া, জেলা-সিরাজগঞ্জ বর্তমান ঠিকানা-শ্বশুর মোঃ মোস্তফা, সাং-দিঘুলিয়া মধ্যপাড়া (বাবলুর ভিটা), থানা-ফরিদপুর, জেলা-পাবনা। ২) ছিনতাইকৃত ভ্যান ক্রেতা- মোঃ মুক্তার হোসেন (৪৫), পিতা-মৃত রিকাত আলী, সাং-ধানুয়াঘাটা, জেলা-পাবনা । উদ্ধারকৃত আলামতঃ ০১। একটি তিন চাকা বিশিষ্ট অটোভ্যানগাড়ী (যাহার ৪ টি ব্যাটারী, প্রতিটি ১২ ভোল্ট করে, যাহার বডি হলুদ রংয়ের উপর সবুজ রংয়ের প্রিন্ট করা, পিছনে ভাই ভাই লেখা রয়েছে, যার মূল্য অনুমান ৫০,০০০/-টাকা)। ০২। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত প্রায় ২ ফিট সাইজের একটি কাঠের বাটাম। ০৩। ছিনতাই হওয়া অটোভ্যানগাড়ী বিক্রয় লব্ধ নগদ ৯,০০০/- (নয় হাজার) টাকা।
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত