প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নতুন ধারণা পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে: মাভাবিপ্রবি উপ-উপাচার্য
মোঃ এরশাদ , টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ||
নতুন চিন্তা, জ্ঞান ও গবেষণার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান।তিনি বলেন, “নতুন কথা বলতে পারার মানুষের সংখ্যা খুবই কম।” গবেষণার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জ্ঞানের মূল ভিত্তি ও নৈতিকতার জায়গা শক্ত করতে হবে। “জ্ঞানের মাস্তান সবচেয়ে বড় মাস্তান” বলেও মন্তব্য করেন তিনি।শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) মাভাবিপ্রবির আইসিটি বিভাগের সেমিনার কক্ষে ‘From Research Idea to Q1 Journal Publication’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। আইসিটি বিভাগের Sub-project PIN: C-53, ICSETEP-এর উদ্যোগে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়।প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। একটি বড় ঐতিহাসিক বা ভূতাত্ত্বিক ঘটনার চেয়েও একটি নতুন ধারণা পৃথিবীকে অধিক পরিবর্তন করতে পারে। নতুন চিন্তা, জ্ঞান ও গবেষণার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা সম্ভব।তিনি বলেন, “মাভাবিপ্রবিকে একটি গবেষণাবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।” শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও প্রকাশনার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসাইন বলেন, গবেষণায় প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে এর সুফল প্রান্তিক কৃষকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে তরুণ গবেষকদের আরও বেশি করে গবেষণায় সম্পৃক্ত হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা। গবেষণার ফলাফল মানসম্মত জার্নালে প্রকাশের মাধ্যমে তা একাডেমিক সমাজ, নীতিনির্ধারক, শিল্পখাত ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রকাশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা ও একাডেমিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু গবেষণা করলেই হবে না; গবেষণার বিষয় নির্বাচন, গবেষণাপদ্ধতি, ফলাফল বিশ্লেষণ থেকে প্রকাশনা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ইইই বিভাগের প্রফেসর ড. আবদুল খালেক। তিনি রুয়েটের রিসার্চ সেলের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।আইসিটি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ বলেন, বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চ কনফিগারেশনের কম্পিউটারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এ খাতে গবেষণার পরিধি বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এর মাধ্যমে একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে কোলাবোরেশন ও যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। দেশের জন্য এটি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ।সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান, আইসিটি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মনির মোর্শেদ, আইসিটি বিভাগের প্রফেসর ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসাইন।সেমিনারের কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করেন ICSETEP-এর Sub-project PIN: C-53-এর Co-PI প্রফেসর ড. মোছা. নার্গিস আক্তার। মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন একই প্রকল্পের Principal Investigator (PI) ড. নজরুল ইসলাম।
সেমিনারে গবেষণার উপযোগী ধারণা নির্বাচন, গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের প্রস্তুতি, Q1 জার্নাল নির্বাচন, গবেষণাপত্রের কাঠামো এবং প্রকাশনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত