প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
পাবিপ্রবির জুলাই-৬ হল থেকে ল্যাপটপ-মানিব্যাগ চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগা
মো: মেহেদী হাসান মুন্না, পাবিপ্রবি প্রতিনিধি ||
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) জুলাই ৬ হল থেকে একটি ল্যাপটপ ও একটি মানিব্যাগ চুরির ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে ১১টার মধ্যে হলটির ৯ম ও ৮ম তলা থেকে এসব চুরির ঘটনা ঘটে।জানা যায়, জুলাই-৬ হলের ৯ম তলার ৯৩৮ নম্বর কক্ষ থেকে অভিষেক বাসাক নামের এক শিক্ষার্থীর ৭০ হাজার টাকা মূল্যের এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ চুরি হয়। একই সময়ে হলটির ৮ম তলার ৮০৬ নম্বর কক্ষ থেকে প্রত্যয় শাহরিয়ার নামের এক শিক্ষার্থীর একটি মানিব্যাগ চুরির ঘটনা ঘটে।চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। হলের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।ভুক্তভোগী স্থাপত্য বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রত্যয় শাহরিয়ার বলেন, আমি স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ায় অনেক রাত পর্যন্ত বিভাগের কাজ করতে হয়। রাত দুইটা থেকে তিনটার সময় রুমে এসে মানিব্যাগটি টেবিলের উপর রাখি।সকালে রুমের কেউ দরজাটি খুলে রেখে বাইরে যায়।আমি সকাল ১১টার সময় ঘুম থেকে উঠে মানিব্যাগটি আর খুঁজে পাই না।মানিব্যাগে ১৮০০ টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড সহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্ড ছিল।আরেক ভুক্তভোগী আইসিই বিভাগের শিক্ষার্থী অভিষেক বাসাক বলেন, তার রুমমেট ইমরান বাসায় আগুন লাগার কারণে ভোরে রুম থেকে চলে যান। যাওয়ার সময় তিনি দরজা চাপিয়ে দিয়ে গেলেও পরে দরজা কীভাবে খুলেছে, তা নিশ্চিত নন। অভিজিৎ সকাল সাড়ে ৮টার পর ঘুম থেকে উঠে ক্যাফেতে যান। পরে সাড়ে ১১টার দিকে পড়তে বসার সময় দেখতে পান, তার ল্যাপটপটি রুমে নেই। রুমমেটদের জিজ্ঞেস করেও কোনো তথ্য না পেয়ে বিষয়টি হল কর্তৃপক্ষ ও প্রক্টর অফিসকে জানানো হয়। পরে সিসি ক্যামেরা পরীক্ষা করে জানা যায় সপ্তম, অষ্ঠম ও নবম তলার ক্যামেরাগুলো দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে রয়েছে এবং গেটের ক্যামেরা থেকেও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।ভুক্তভোগী অভিষেকের রুমমেট ইমরান হোসেন বলেন, আমি সকাল সাড়ে পাচঁটার সময় খবর পাই যে আমার বাড়িতে আগুন লাগছে এবং আমি ছয়টার সময় বাড়ির উদ্দেশ্য রুম থেকে বের হই। অভিষেক রাত জেগে পড়াশোনা করে দেরিতে ঘুমানোতে আমি বের হওয়ার সময় ওকে আর ঘুম থেকে তুলি নাই ফলে রুমের দরজা খোলা রেখেই বের হয়ে যাই। সকাল এগারোটার সময় অভিষেক আমাকে ফোন দিয়ে জানায় যে তার ল্যাপটপটি পাওয়া যাচ্ছে না এবং জিজ্ঞেস করে আমি এ বিষয়ে কিছু জানি কিনা। আমি বল্লাম যে না আমি তো এবিষয়ে কিছু জানি না।অভিষেকের আরেক রুমমেট জনি মিয়া বলেন, ল্যাপটপটি ঠিক কখন হারিয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। সকাল ১১টা ১০ মিনিটের দিকে পড়তে বসার সময় অভিজিৎ ভাই ল্যাপটপটি খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি জানান। পরে হলের বিভিন্ন রুমে খোঁজ করেও ল্যাপটপটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রভোস্ট ও প্রক্টর অফিসে যোগাযোগ করা হলে থানায় জিডি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে সিসি ক্যামেরা পরীক্ষা করে সপ্তম, অষ্ঠ ও নবম তলার ক্যামেরাগুলো নষ্ট পাওয়া যায়। গেটের ক্যামেরা পরীক্ষা করেও ল্যাপটপ হারানোর বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ক্যামেরা নষ্টের বিষয়ে হল প্রভোস্টের অফিস থেকে জানানো হয়,বজ্রপাতের কারণে সিসিটিভি নষ্ট হয়ে গেছে।এ বিষয়ে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান বলেন, “ওই শিক্ষার্থীকে থানায় একটি জিডি করতে বলেছি এবং এর কপিগুলো দিতে বলেছি। একই সঙ্গে প্রক্টর অফিসেও কপিগুলো দিতে বলেছি। আমি থানায় বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। কর্তৃপক্ষও ঘটনাটি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় চেষ্টা করছে।”
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত