প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
গেটে বকশিশের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, শেষ পর্যন্ত ভেঙে গেল বিয়ো
ধ্রুবকন্ঠ ডেক্স ||
বগুড়ার সদর উপজেলায় বিয়ের অনুষ্ঠানে
গেটের বকশিশের টাকা নিয়ে বর ও কনে পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের
অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এ
ঘটনার পর ভেঙে গেছে বিয়ে।গতকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার
শাখারিয়া ইউনিয়নের তিলেরপাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।আহতদের মধ্যে শাহ আলম ও সাগর নামের দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা
হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ
ফেলুরপাড়া এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে সাগর মিয়ার সঙ্গে বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া
ইউনিয়নের তিলেরপাড়া গ্রামের টুটুল মিয়ার মেয়ে সাথী আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে
ঠিক হয়।নির্ধারিত সময়ে বরযাত্রী কনের বাড়িতে পৌঁছালে গেটের বকশিশের
টাকা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে
বগুড়া সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।বরপক্ষের অভিযোগ, গেটের বকশিশ
নিয়ে বিরোধের জেরে কনেপক্ষের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় নারী-পুরুষসহ কয়েকজন
মারধরের শিকার হন। তাদের দাবি, হামলার সময় প্রায় ১৫টি মোবাইল ফোন, একটি স্বর্ণের চেইনসহ
মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তাদের বহনকারী কয়েকটি যানবাহনও ভাঙচুর করা হয়েছে
বলে অভিযোগ করেন তারা।বরের চাচাতো বোন জাকিয়া আক্তার
বলেন, ‘আনন্দের সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠানে এলেও কনেপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি
দেখায়। নারীদের মারধর করা হয়। কয়েকজনকে জোর
করে পাটক্ষেতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে উপস্থিত ব্যক্তিদের মোবাইল
ফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।’বরের মামি মাহমুদা বেগম বলেন, ‘গেটের বকশিশ হিসেবে ১ হাজার ৫০০
টাকা দাবি করা হলেও আমরা ৫০০ টাকা দিতে চাই। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা
সৃষ্টি হয়। পরে বিয়ে না করে চলে যেতে চাইলে আমাদের পথরোধ করে মারধর করা হয়। এমনকি
১০ লাখ টাকা দাবি করে হুমকিও দেওয়া হয়।’তবে কনেপক্ষের লোকজন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি,
বরপক্ষের লোকজনই প্রথমে হামলা চালিয়ে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন। তারা
কোনো ধরনের হামলা বা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত নন।বিয়ের ঘটক শামসুল হক বলেন, বিয়ের আগে পোশাক নিয়ে দুই পক্ষের
মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। তবে বিয়ের দিন বরপক্ষ অতিরিক্ত শেরওয়ানি দাবি করলে তিনি নিজ
উদ্যোগে শেরওয়ানি, মুকুট ও জুতা কিনে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। এরপর গেটের
বকশিশ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে ৭০০ টাকায় বিষয়টির
সমাধান করা হয়। কিন্তু কনের শারীরিক প্রতিবন্ধী দাদাকে ধাক্কা দেওয়াকে কেন্দ্র করে
আবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোলাইমান আলী বলেন,
‘গেটের বকশিশের টাকা নিয়ে প্রথমে বর ও কনেপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা
হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে বরপক্ষ বিয়ে না করেই ফিরে যেতে
চাইলে স্থানীয় কয়েকজন ও কনেপক্ষের সদস্যরা তাদের যেতে বাধা দেন। একপর্যায়ে
বরপক্ষের কয়েকজনকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে
তাদের উদ্ধার করে।’তিনি আরো বলেন, ‘আহতদের মধ্যে বরপক্ষের দুজন হাসপাতালে
চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী হারানোর অভিযোগ
পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া
হবে।’বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী
বলেন, ‘বিয়েবাড়ির গেটে বকশিশ চাওয়া নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় বরপক্ষ শনিবার দুপুরে
থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত