প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
গ্যাসের দাম বাড়লে পেট্রোবাংলা অবরোধের হুঁশিয়ারি এনসিপিরা
ধ্রুবকন্ঠ ডেক্স ||
রাজধানীর
কারওয়ান বাজারে পেট্রোবাংলা ভবন অভিমুখে প্রতীকী মার্চ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি
(এনসিপি)। এই কর্মসূচি থেকে এনসিপির নেতারা বলেছেন, দেশে চলমান গ্যাস–সংকটের মধ্যে
মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা করা হলে পেট্রোবাংলা ভবন অবরোধ করা হবে। কর্মকর্তাদের ভেতরে প্রবেশ
বা বের হতে দেওয়া হবে না।আজ
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে কারওয়ান বাজার মোড়ে সার্ক ফোয়ারায় ‘রাজধানীসহ দেশজুড়ে বাসাবাড়ি,
শিল্পকারখানা ও পরিবহনে গ্যাসের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে’ সমাবেশ
করে এনসিপি।পরে
সেখান থেকে ‘প্রতীকী মার্চ’ করে পেট্রোবাংলা ভবনের সামনে যায় তারা। এই কর্মসূচির আয়োজন
করে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা।উল্লেখ্য,
তীব্র গ্যাস–সংকটের মধ্যেই বিদ্যুৎ ও সিএনজি খাতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিতে
নীতিগত অনুমোদন চেয়ে সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি
দিয়েছে পেট্রোবাংলা।এতে
বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ৬৭ শতাংশ ও পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজিতে ৫১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব
করা হয়েছে। এ ছাড়া ছয়টি গ্যাস বিতরণ সংস্থার বিতরণ চার্জ বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। জ্বালানি
বিভাগের অনুমোদন পেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে (বিইআরসি) দাম বাড়ানোর
আবেদন করবে তারা। এরপর গণশুনানি করে সিদ্ধান্ত দেবে বিইআরসি।সার্ক
ফোয়ারায় সমাবেশে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক
আরিফুল ইসলাম আদীব সমাপনী বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি সরবরাহ ও জনবান্ধব কর্মসূচি
নেওয়ার কথা থাকলেও পেট্রোবাংলা ও তিতাসের মতো সংস্থাগুলো লুটপাটের সংস্থায় পরিণত হয়েছে।
পেট্রোবাংলায় নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ২০ থেকে ৫০ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়ে থাকে। এর ভাগ মন্ত্রী
থেকে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত যায়।’পেট্রোবাংলার
পক্ষ থেকে জ্বালানি বিভাগে গ্যাসের দাম বাড়ানোর যে প্রস্তাব দিয়েছে, সেই পাঁয়তারা যদি
বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়, তাহলে ঢাকাবাসীকে নিয়ে পেট্রোবাংলা ভবন অবরোধ করার হুঁশিয়ারি
দিয়েছেন আরিফুল ইসলাম।তিনি
বলেন, ‘গ্যাসের সংকটের কারণে আমাদের বোনেরা রান্না করতে পারছেন না। এর প্রতিবাদে আমরা
খালি বাসন ও পাতিল নিয়ে এসেছি। এগুলো নিয়ে আমরা পেট্রোবাংলা অভিমুখে মার্চ করছি। দ্রুত
গ্যাস–সংকটের সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলন করে জ্বালানিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের
পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।’আরিফুলের
আগে ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেন, ১০
আগস্টের মধ্যে গ্যাসের সংকট সমাধান না হলে মানুষ গ্যাসের অফিস ঘেরাও করবে। জ্বালানিবিষয়ক
মন্ত্রীকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে তিনি বলেন, যেভাবে বিদ্যুতের দাম দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে,
সেভাবে গ্যাসের দামও যদি বাড়ানো হয়, তাহলে পেট্রোবাংলার টেবিল–চেয়ার খুলে আনা ছাড়া
আর কিছু করার থাকবে না।সমাবেশে
অন্যদের মধ্যে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম
আহ্বায়ক অহিদুল আলম, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।
সমাবেশের পর সার্ক ফোয়ারা থেকে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পেট্রোবাংলা ভবনের ফটকের
সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ঢাকা উত্তর এনসিপির শীর্ষ নেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের
মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ধারাবাহিক কর্মসূচি চলবে। আগামীতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির
বিরুদ্ধেও বৃহত্তর কর্মসূচি করা হবে।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত