প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
সন্তানদের হামের চিকিৎসা করাতে গিয়ে মারা গেলেন মাা
ধ্রুবকন্ঠ ডেক্স ||
হামে আক্রান্ত চার বছরের শিশুকন্যা
দংওয়াই ম্রো বান্দরবান সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের বেডে শুয়ে অপলক দৃষ্টিতে চারপাশ
খুঁজছে। কখনো কান্নাকাটি করছে, কখনো চাচার কোলে মাথা গুঁজছে।তার পাশে বিমর্ষ মুখে বসে আছেন চাচা ক্রংতং ম্রো
(১৯)। চোখের পানি লুকিয়ে তিনি ভাইঝির সেবা করছেন। শিশুটি এখনো জানে না, যে মা তাকে
সুস্থ করতে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন, তিনি আর কখনো ফিরবেন না।সন্তানদের সেবা করতে গিয়ে অসুস্থ
হয়ে পড়া মা লেংরুং ম্রো (২৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন। বান্দরবান সদর হাসপাতাল থেকে গত বুধবার
উন্নত চিকিৎসার বদলে অর্থাভাবে গ্রামে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।জানা যায়, বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম গ্যালেঙ্গা ইউনিয়নের
চিনিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা লেংরুং ম্রো গত ২৬ জুলাই হামে আক্রান্ত দুই সন্তানকে নিয়ে
বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে সন্তানদের সেবা করার সময় ২৮ জুলাই হঠাৎ তিনিও
অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। নার্সদের ধারণা, আক্রান্ত শিশুদের সার্বক্ষণিক শুশ্রূষা
করতে গিয়েই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে
চিকিৎসকেরা দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তবে
অর্থাভাব এবং ভাষার সমস্যার কারণে বড় ধরনের বিপাকে পড়ে পরিবারটি।নিহতের
দেবর ক্রংতং ম্রো বলেন, ‘আমার ভাই ক্রংসং ম্রো (২৮) বাংলা বলতে পারেন না, অক্ষরজ্ঞানও
নেই। হাতে কোনো টাকা ছিল না। চট্টগ্রাম মেডিক্যালে প্রচুর খরচ হবে—এমন ভয়ে তিনি স্ত্রীকে
কবিরাজি চিকিৎসার জন্য গ্রামে নিয়ে যান। আর দুই শিশুর দেখাশোনার দায়িত্ব আমার ওপর দিয়ে যান।’গত ২৯ জুলাই বিকেলে গ্রামে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই লেংরুং ম্রোর
মৃত্যু হয়। পরদিন ৩০ জুলাই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। স্ত্রীর মৃত্যুর পর শোকে ও
জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন শিশুদের বাবাও। ফলে এখন তিন শিশুর
চিকিৎসা ও দেখাশোনার পুরো দায়িত্ব পড়েছে ১৯ বছর বয়সী চাচার কাঁধে।এদিকে রুমার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক
রূপ নিয়েছে। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, দারিদ্র্য ও যথাসময়ে টিকাদানের অভাবই এর প্রধান
কারণ বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।জানা গেছে, হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে বর্তমানে শিশু ও নারীসহ
২৪ জন ভর্তি রয়েছেন। চলতি বছর জেলাটিতে দেড় হাজারের বেশি মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছে
এবং সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৯ জন।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত