প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
দুর্ভোগের অন্য নাম মাতুয়াইলের হাজী বাদশা মিয়া সড়ক: ৬০ হাজার শিক্ষার্থী ও দেড় লাখ মানুষের কান্নার রোলা
মোঃ সালমান ফারসী , ঢাকা প্রতিনিধি ||
টানা বারো মাসই সড়কে জমে থাকে হাঁটু সমান নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি। সামান্য বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই, সাধারণ শুষ্ক মৌসুমেও এই চিত্র বদলায় না। রাজধানীর মাতুয়াইলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'হাজী বাদশা মিয়া সড়ক'টি এখন স্থানীয় বাসিন্দা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য এক জীবন্ত নরকে পরিণত হয়েছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার এবং স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় অন্তত দেড় লাখ বাসিন্দা ও ৬০ হাজার শিক্ষার্থী। সড়কটিতে অবিলম্বে সংস্কার কাজের দাবিতে মানববন্ধন ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।বারোমাসি জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজের গলদসরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাজী বাদশা মিয়া সড়কটির সাথে সংযুক্ত অন্যান্য শাখা সড়কগুলো অপেক্ষাকৃত উঁচু। ফলে ওইসব উঁচু সড়কের ড্রেনের সমস্ত নোংরা ও বর্জ্যমিশ্রিত পানি নিচু এই সড়কটিতে এসে জমা হয়। পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বছরের ৩৬৫ দিনই সড়কটি মারাত্মক দূষিত পানিতে নিমজ্জিত থাকে। পচা পানির তীব্র দুর্গন্ধে ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের দম আটকে আসার উপক্রম হয়েছে। রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় নাক চেপে ধরে চলতে হয় পথচারীদের।সবচেয়ে বড় শিকার সামসুল হক খান স্কুলের শিক্ষার্থীরাএই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে এলাকার নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের প্রায় ৬০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী। কোমলমতি শিশুদের প্রতিদিন এই বিষাক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি মাড়িয়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক সময় রিকশা উল্টে বা পা পিছলে নোংরা পানিতে পড়ে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও স্কুল ইউনিফর্ম নষ্ট হয়ে যায়। নোংরা পানির কারণে বাধ্য হয়ে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠানো কমিয়ে দিয়েছেন, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।তীব্র স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দেড় লাখ বাসিন্দাদীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এই কালো ও বিষাক্ত পানি এলাকার জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসকদের মতে, এই দূষিত পানির সংস্পর্শে আসার কারণে শিশুদের মাঝে চর্মরোগ, টাইফয়েড, ডায়রিয়া এবং জন্ডিসের মতো পানিবাহিত রোগের প্রকোপ জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। এছাড়া জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয় দেড় লাখ মানুষের।ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার নেতৃত্বে এলাকাবাসীর আলটিমেটামভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও ফুঁসে ওঠা শিক্ষার্থীরা জানান, সড়কটি সংস্কারের জন্য বারবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও শুধু আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় এবার তারা গতকাল বৃহস্পতিবার ১১ই জুন রাস্তায় নেমে মানববন্ধনের মতো কঠোর কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হয়েছেন।তাদের দাবি স্পষ্ট—অনতিবিলম্বে হাজী বাদশা মিয়া সড়কটিকে উঁচু করতে হবে এবং পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে এই স্থায়ী অভিশাপ থেকে লাখো মানুষকে মুক্তি দিতে হবে। তা না হলে আগামীতে আরও কঠোর ও লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ভেঙে এই সড়কটি কি দ্রুত সংস্কার হবে, নাকি আরও হাজারো শিক্ষার্থীর কান্না আর দীর্ঘশ্বাসে ভারী হবে মাতুয়াইলের বাতাস—এখন এটাই দেখার বিষয়।
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত