প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের দিন শেষের পথো
ধ্রুবকন্ঠ ডেক্স ||
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী মুখ ছিলেন ওবায়দুল কাদের। টানা কয়েক বছর দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা এখন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মকাণ্ড থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছেন। আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের অধ্যায় কি তবে শেষের পথে?একসময় ওবায়দুল কাদেরের রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মসূচি ছিল সংবাদমাধ্যমের প্রধান আলোচ্য বিষয়। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় তিনি অনেকটাই নিঃসঙ্গ ও প্রান্তিক অবস্থানে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রগুলো দাবি করছে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল মাধ্যমে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছেন। তবে এই প্রক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে না।ছবি: সংগৃহীতদলীয় সূত্রে জানায়, ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে শেখ হাসিনা এমন ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করছেন, যাদের মধ্যে প্রয়াত জিল্লুর রহমান ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মতো শৃঙ্খলা, ভদ্রতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা রয়েছে। ফলে ওবায়দুল কাদেরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।জানা গেছে, বর্তমানে স্ত্রী ইসরাতুন্নেসা কাদেরকে নিয়ে ভারতের কলকাতার নিউ টাউনে বসবাস করছেন সাবেক এই মন্ত্রী। একসময় নেতাকর্মীদের ভিড়ে যিনি সর্বদা ঘিরে থাকতেন, এখন তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন খুব অল্প কয়েকজন। জানা গেছে, সাবেক গাজীপুর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী এবং তানভীর হাসান ছোট মনিরের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে।দলের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে তার প্রতি অসন্তোষ রয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের পাশ কাটিয়ে নতুন ও বিতর্কিত মুখদের গুরুত্ব দিয়েছেন। এছাড়া উপকমিটির পদ বণ্টন, রাজনৈতিক বক্তব্যের নাটকীয়তা এবং জনসম্পৃক্ততার পরিবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণার কারণেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন।বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগকে দেওয়া তার কিছু নির্দেশনাকেও বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন দলের একাংশের নেতারা। তাদের মতে, ওই সময়ের সিদ্ধান্তগুলো পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছিল।ছবি: সংগৃহীতদলীয় পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের উপস্থিতি ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি গঠনে তিনি যতটা মনোযোগী ছিলেন, সংগঠনের ভেতরে জমে ওঠা সংকট ও চাটুকারিতার সংস্কৃতি ততটা গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়েছে।এমনকি কলকাতায় অবস্থান করেও তিনি দলীয় ভার্চুয়াল বৈঠক কিংবা নেতাকর্মীদের বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক আলোচনার বাইরে রয়েছেন বলে জানা গেছে। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও তার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখছেন বলে আলোচনা রয়েছে।এক বছর আগে শেখ হাসিনার দিল্লিতে সাক্ষাতের আহ্বানেও তিনি সাড়া দেননি বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। তবে এর পেছনে অভিমান নাকি অন্য কোনো কারণ ছিল, তা স্পষ্ট নয়।বর্তমানে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায় না ওবায়দুল কাদেরকে। অন্যদিকে, তার বিরুদ্ধে হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও দুর্নীতিসহ শতাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব কমে আসার পাশাপাশি এসব আইনি জটিলতাও তার ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।সূত্র: টাইমস অব বাংলাদেশ
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত