প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
উপাচার্য পরিবর্তনের রাতে কুবির হল প্রাধ্যক্ষের নামফলক খুললেন ছাত্রদল কর্মী া
শারাফাত হোসাইন, কুবি প্রতিনিধি ||
কুমিল্লা
বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) উপাচার্য পরিবর্তন হওয়ার রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের
প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খানের নামফলক খুলে ফেলেন বিশ্ববিদ্যালয়
শাখা ছাত্রদলের কর্মী বিএম সুমন। এ ঘটনায় হলে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা সমালোচনা।অভিযুক্ত
বিএম সুমন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে তার
ছাত্রত্ব শেষ হলেও তিনি এখনও হলে অবস্থান করছেন বলে জানান হল কতৃপক্ষ। তবে জানা গেছে
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে ২য় মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছেন। সিসিটিভি
ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৬ মিনিটে তিনি বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ
কক্ষের সামনে গিয়ে নামফলকটি খুলে ফেলেন। এসময়
তার সাথে দেখা যায় লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের হলের আবাসিক শিক্ষার্থী
আব্দুল্লাহ আল নোমানকে৷ শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ
করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়।অভিযুক্ত
বি এম সুমনের সঙ্গে থাকা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, 'রাতে সুমন ভাই আমাকে একটা জিনিস
দেখাবে বলে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি নেমপ্লেট খুলবেন, বিষয়টি আগে জানতাম না। জানলে
সেখানে যেতাম না। নেমপ্লেট খুলে ফেলার পর আমি তাকে বলেছি, এটা ঠিক হয়নি। এর আগে বা
পরে কী হয়েছে, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”এ
ঘটনায় বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী বায়েজিদ হোসেন বলেন, '৫ই আগষ্ট পরবর্তী সময়ে
আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম নতুন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ তথা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে।
কিন্তু গতকাল ভিসি পরিবর্তনের ঘোষণার পর বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্টের নেমপ্লেট খুলে নেওয়ার
ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও শৃঙ্খলাবিরোধী। পরে জানতে পারি, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাবেক
শিক্ষার্থী বিএম সুমন এ কাজটি করেছেন। এটি একজন শিক্ষককে অবমাননার শামিল। প্রশাসনের
কাছে দ্রুত এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।'এ
ঘটনায় অভিযুক্ত বিএম সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে
রাজি হননি।এ
বিষয়ে বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান বলেন, “বিষয়টি
সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। সকালে দেখি আমার হলের শিক্ষার্থী বিএম সুমন এই কাজটি করেছে।
তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই। তবে তার মাস্টার্স সম্পন্ন হওয়ায় তাকে কয়েকবার
হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জুনিয়র শিক্ষার্থীদের হলে তোলার প্রক্রিয়া চলমান থাকায়
যাদের মাস্টার্স শেষ হয়েছে, তাদের হল ছাড়তে বলা হয়েছে।”
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত