প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
কুবিতে আইকিউএসির নবীন বরণ: দ্বিতীয় দিনে বাংলা ও ইংরেজি বিভাগের অংশগ্রহণা
শারাফাত হোসাইন, কুবি প্রতিনিধি ||
কুমিল্লা
বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে
২০২৫–২৬
শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী ওরিয়েন্টেশন, একাডেমিক গাইডলাইন,
কাউন্সিলিং ও মোটিভেশনভিত্তিক ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে বাংলা ও ইংরেজি
বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।সোমবার
(৪ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচির
উদ্বোধন হয়।উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হায়দার
আলী। বিশেষ অতিথি ও রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন প্রফেসর
ড. বনানী বিশ্বাস, ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ গোলাম
মাওলা, প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. আবদুল হাকিম এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের
পরিচালক ড. নাহিদা বেগম।রিসোর্স
পারসন হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ
রেজাউল করিম এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ হারুন। এবং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব
করেন আইকিউএসি’র
পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান।অনুষ্ঠানে
মোট পাঁচটি সেশন অনুষ্ঠিত হয় । সেগুলো ছিল -কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি ও নিয়মকানুন,
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ও ওবিই সম্মত
একাডেমিক প্রোগ্রামের কাঠামো, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও দায়িত্ব, শিক্ষার্থীদের
জন্য স্টুডেন্ট সাপোর্ট সার্ভিসেস এবং এআই যুগের উপযোগী কর্মসংস্থানযোগ্য ও উদ্ভাবনী
গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্য ও দিকনির্দেশনা।ছাত্র
পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. নাহিদা বেগম বলেন,"কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের
২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের জন্য আইকিউএসি কর্তৃক আয়োজিত একাডেমিক
অরিয়েন্টেশন বা শিক্ষার্থীর গুণগত মানবৃদ্ধি সূচক কর্মশালায় নবাগত শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং
অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি অংশ। এটি তাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন ও ভিন্নধর্মী পরিবেশের
সাথে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত করছে। শিক্ষাজীবনের একাকীত্ব বা উদ্বেগ,
চাপ কাটিয়ে কী করে মানসিক ভারসাম্য বজায় রেখে একজন বিশ্বনাগরিক হয়ে উঠতে পারবে তার
অনুপ্রেরণা আছে এই কাউন্সেলিংয়ে। এটি শিক্ষার্থীদের পঠন-পাঠনের নতুন পদ্ধতির সাথে পরিচিত
করার পাশাপাশি তাদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করতেও উৎসাহী করছে। সার্বিকভাবে, এটি নবীনদের
আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তাদের একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও সফল শিক্ষাজীবনের পথচলায় স্বাগত জানাচ্ছে।"অনুষ্ঠানের
সভাপতি আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান বলেন, 'গতকাল থেকে ১০ দিনব্যাপী
এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শক্তিশালী নীতিমালা ও একাডেমিক
সংস্কৃতি গড়ে তোলা অপরিহার্য। শুধু ‘কোয়ালিটি এডুকেশন’ বা ‘কোয়ালিটি গ্র্যাজুয়েট’ তৈরির কথা বললেই হবে না, এর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি
ও নির্দিষ্ট মানদণ্ড অর্জন জরুরি।'তিনি
আরও বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান, বিশ্ব র্যাংকিং ও গ্র্যাজুয়েটদের সক্ষমতা—সবকিছুরই নির্দিষ্ট মাপকাঠি রয়েছে। সেই মানদণ্ডে নিজেদের
প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা প্রচলিত পাঠ্যক্রম থেকে
বেরিয়ে আউটকাম বেইসড কারিকুলামের দিকে অগ্রসর হয়েছি। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ
লক্ষ্য নির্ধারণ ও সে অনুযায়ী প্রস্তুত হতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে।'উপাচার্য
অধ্যাপক ড. মো: হায়দার আলী বলেন, '২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের স্বাগত। কঠিন প্রতিযোগিতার
মাধ্যমে এখানে ভর্তি হয়েছ, তাই তোমরা মেধাবী। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তোমরা স্বাধীন– এই সুযোগের সঠিক ব্যবহার করলে ভালো শিক্ষার্থী হওয়া সম্ভব,
অপব্যবহার করলে বিপরীতও হতে পারে। এই সময়ে তোমাদের জীবন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে। ভালো
ও খারাপ দুই পথের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তোমাদের আচরণ ও জ্ঞানই বিশ্ববিদ্যালয়ের
সুনাম বৃদ্ধি করবে।'উল্লেখ্য,
গতকাল রবিবার (৩ মে) থেকে ১০ দিনব্যাপী এ নবীন বরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত