প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রায় ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ নেই কুবিতে; ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরাা
শারাফাত হোসাইন, কুবি প্রতিনিধি ||
কুমিল্লা
বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ঝড়ের কারণে টানা
২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে
শুরু হওয়া এই বিদ্যুৎ
বিভ্রাট সোমবার বিকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক
ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।রবিবার
(২৬ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে
শুরু হওয়া প্রবল ঝড়
ও বৃষ্টির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং আশপাশের সালমানপুর
এলাকায় গাছপালা ভেঙে পড়ে। এতে
বিদ্যুৎ লাইনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং পুরো
ক্যাম্পাস দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সংযোগের
বাইরে চলে যায়।সরেজমিনে
দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তর ও কোটবাড়ী-টু-ক্যাম্পাস সড়কে প্রায় ১৫-২০টি গাছের ডালপালা
ভেঙে পড়েছে এবং কিছু গাছ
উপড়ে পড়ে আছে। এছাড়া
দুটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে, যার
ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।দীর্ঘ
সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্যাম্পাসজুড়ে
নানা সংকট তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে আবাসিক হলগুলোতে
তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
খাবার পানি, গোসল ও ওয়াশরুম
ব্যবহারে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন
শিক্ষার্থীরা।গনযোগাযোগ
ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল মিয়া বলেন, 'গতকাল
রাত থেকে বিদ্যুৎ না
থাকার কারণে পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, বিশেষ করে যাদের সেমিস্টারে
ও মিড পরীক্ষা আছে
তারা পড়াশোনা করতে পারছে না।
এছাড়া কারেন্ট না থাকায় হলের
মধ্যে পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
এটি দ্রুত সমাধান করা না হলে
তা আমাদের জন্য আরও সমস্যার
সৃষ্টি করবে। প্রশাসন যেন দ্রুত সমস্যার
সমাধান করে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ
সরবরাহ নিশ্চিত করে।'সুনীতি
শান্তি হলের আবাসিক শিক্ষার্থী
নুসরাত জাহান বলেন, 'আমাদের সেমিস্টার চলমান। গতকাল থেকে বিদ্যুৎ না
থাকায় ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছি না।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো,
হলে পানিও প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
রান্না, গোসল এমনকি পান
করার পানিও নেই। দ্রুত বিদ্যুৎ
সংযোগ চালুর ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।'বিজয়-২৪ হলের আবাসিক
শিক্ষার্থী নাঈম ভুঁইয়া বলেন,
'বিশ্বিবদ্যালয়ের নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা প্রয়োজন। ছোট একটা ঝড়-
তুফান হলে বিদ্যুৎ চলে
যায়। আজকে অনেক বিভাগে
সেমিস্টারে ছিল, সেগুলো নিতে
বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে হয়েছে। আমার
নিজের বিভাগে একটা ডিফেন্স ছিল
সেটি চাইলেও নিতে পারবে না।
প্রায় ২২ ঘন্টা ধরে
বিদ্যুৎ নাই এভাবে তো
একটা বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না।
বিশ্বিবদ্যালয় প্রসাশনের উচিত কতৃপক্ষের সাথে
যোগাযোগ করে একটা সাব
স্টেশনের ব্যবস্থা করা এতে শিক্ষার্থীরা
উপকৃত হবে। 'এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের সুপারিন্টেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার (বৈদ্যুতিক) মো. জাকির হোসেন
বলেন, 'ঝড়বৃষ্টির কারণে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও লাইনের বিভিন্ন
স্থানে ক্ষতি হয়েছে। গত রাত থেকেই
গাছ অপসারণ, খুঁটি স্থাপন ও লাইন মেরামতের
কাজ চলছে। এখনও বিভিন্ন স্থানে
কাজ চলমান রয়েছে। পুরোপুরি মেরামত শেষ হতে কিছুটা
সময় লাগবে। আমরা দ্রুত বিদ্যুৎ
সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছি।
তবে সন্ধ্যার আগে আসবে বলে
নিশ্চিয়তা দিতে পারছি না।
'
এএমএন/ধ্রুবকন্ঠ
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত