প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
কুবির বিজয়-২৪ হলকে মাদকমুক্ত করতে উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপিা
রশারাফাত হোসাইন, কুবি প্রতিনিধি ||
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আবাসিক হলগুলোকে মাদকমুক্ত করার দাবিতে ছয় দফা
দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছেন বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।রবিবার (১৯ এপ্রিল) উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, বিজয়-২৪ হলের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে
অনাকাঙ্ক্ষিত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে, হলে নিয়মিত গাঁজাসেবনের
আসর বসানো হচ্ছে, যা আইনবিরোধী এবং একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিব্রতকর।এছাড়া, মাদকাসক্ত কিছু শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মারামারি
এবং র্যাগিংয়ের মতো ঘটনায় জড়িত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। এতে নবীন ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের
মধ্যে আতঙ্ক ও অনিরাপত্তা তৈরি হচ্ছে।স্মারকলিপিতে উত্থাপিত ছয় দফা দাবিগুলো হলো–১. বিজয়-২৪ হলে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা২. মাদকাসক্ত ও সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ৩. র্যাগিং ও সহিংসতা বন্ধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন৪. শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় হল প্রশাসনের সক্রিয় নজরদারি বৃদ্ধি৫. মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ৬. শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকাসক্তি শনাক্তে নিয়মিত ডোপ টেস্ট চালু করা।এ বিষয়ে বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. ইমরান মিঞা বলেন, 'কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের
আবাসিক হলগুলো গাঁজা সেবনকারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠতেছে। বিজয় ২৪ হলের কিছু
শিক্ষার্থী বহিরাগতদের প্রশ্রয় দিয়ে হলের ছাদে গাঁজা খেয়ে হলের পরিবেশ নষ্ট করছে। এই
ব্যাপারে আমরা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা খুবই শঙ্কিত।তিনি আরও বলেন, 'পূর্বে হল প্রশাসন ও প্রক্টোরিয়াল বডির সমন্বয়ে হলগুলোতে অভিযান
চালানো হতো। কিন্তু এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি মাদকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে? বিশ্ববিদ্যালয়
প্রশাসন তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। অনতিবিলম্বে
আবাসিক হলগুলোতে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে মাদকমুক্ত শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছে এটা নিশ্চিত
করুক।'এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল হাকিম বলেন, 'বিজয়-২৪
হলের শিক্ষার্থীরা আমার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে হল প্রভোস্টদের সঙ্গে
ইতোমধ্যে বৈঠক করা হয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।'তিনি আরও বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন র্যাগিং ও মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’
নীতি অনুসরণ করছে। পূর্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও
সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'প্রসঙ্গত, এর আগে মাদক সম্পৃক্ততার কারণে ১৫ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে
আবাসিকতা বাতিলসহ একাডেমিক বহিষ্কার করা হয়েছে।এএমএন/ধ্রুবকন্ঠ
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত