প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
বার্সেলোনা কেন চ্যাম্পিয়নস লিগে এমন দিশাহারা হয়ে যায় া
এইচ এম শাহ পরান, প্রকাশক ||
লা লিগায় রীতিমতো শাসন করছে বার্সেলোনা। লিগে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা এবারও শিরোপার লড়াইয়ে বেশ এগিয়ে। অথচ যেই চ্যাম্পিয়নস লিগের সেই বিখ্যাত থিম সংটা বেজে ওঠে, বার্সেলোনার হাঁটু যেন কাঁপতে শুরু করে। লীগের সেই ‘দাপুটে’ বার্সেলোনা ইউরোপের মঞ্চে এসে যেন এক সাধারণ দল। কেন?চ্যাম্পিয়নস লীগের কোয়াটার
ফাইনালে ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলের হার বার্সাকে আরও একবার খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে আরও একবার বিদায়ের শঙ্কায় তারা। অথচ এই আতলেতিকোকেই কদিন আগে লিগের ম্যাচে তাদেরই মাঠে গিয়ে ২-১ গোলে হারিয়ে এসেছিল কাতালানরা। লা লিগার সেই বাঘ চ্যাম্পিয়নস লিগে এসে কেন বিড়াল হয়ে যায়?।গত এক দশকের পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায়, চ্যাম্পিয়নস লিগ বার্সেলোনার জন্য যেন এক গোলকধাঁধা। ২০১৫ সালে জুভেন্টাসকে হারিয়ে সর্বশেষ যখন তারা শিরোপা জিতেছিল, মনে হয়েছিল ইউরোপে বার্সা-রাজ চলবে অনেক দিন। কিন্তু বাস্তবতা হলো ভিন্ন। এরপর ১০ বার চেষ্টা করে ৫ বারই তারা কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে। এবারও সেই পথেই হাঁটছে দল। অথচ এই ১০ বছরেই লা লিগায় বার্সেলোনা জিতেছে পাঁচটি শিরোপা, আর এবার তো ষষ্ঠ শিরোপার পথে ছুটছে তিরবেগে।পার্থক্যটা এখানেই। স্পেনের মাটিতে যারা রিয়াল মাদ্রিদকে অনায়াসেই টেক্কা দিচ্ছে, সেই রিয়ালই আবার ইউরোপের রাজা। গত ১০ বছরে রিয়াল ৫টি ইউরোপিয়ান শিরোপা জিতেছে, অথচ বার্সেলোনা সেই রিয়ালকে লিগে হারালেও চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউটে এসে খেই হারিয়ে ফেলছে। এটা কি নিছকই সামর্থ্যের অভাব, নাকি কোনো মনস্তাত্ত্বিক বাধা?২০০৫/২০০৬ সিজনের পর ক্যাম্প ন্যুতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কোনো জয় ছিল না আতলেতিকো মাদ্রিদের। অবশেষে সেই জয়টা তারা পেল কোথায়? চ্যাম্পিয়নস লিগে! পরিসংখ্যান বলছে, ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় আতলেতিকোর সামনে পড়লেই বার্সা খেই হারিয়ে ফেলে। ২০১৪ এবং ২০১৬ সালেও এই আতলেতিকোর কাছে হেরেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।আতলেতিকোর বিপক্ষে ম্যাচে বিরতির আগেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন পাও কুবারসি। একজন কম নিয়ে খেলেও বার্সা কিন্তু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি। ৫৮ শতাংশ সময় বল ছিল তাদের পায়ে, শট নিয়েছিল ১৮টি। কিন্তু গোল? শূন্য। অন্যদিকে আতলেতিকো মাত্র ৩টি শট অন টার্গেট রেখে গোল আদায় করে নিয়েছে দুটি। একেই বলে ক্লিনিক্যাল ফিনিশিং।
চ্যাম্পিয়নস লিগ আর লা লিগার এই ফারাক ঘোচাতে না পারলে ইউরোপের রাতগুলো বার্সেলোনার জন্য কেবল দীর্ঘশ্বাসের গল্পই হয়ে থাকবে। শেষ পর্যন্ত ইউরোপের রাজা হওয়ার জন্য যে ‘বড় কলিজা’ লাগে, বার্সার তরুণদের মধ্যে সেই তেজটা কি আদৌ আছে?
উত্তরটা হয়তো মিলবে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ফিরতি লেগেই।মোহাম্মদ রায়হান খেলা ডেস্ক
কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত