ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

শ্রীপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার: শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ, নেপথ্যে পারিবারিক নির্যাতন



শ্রীপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার: শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ, নেপথ্যে পারিবারিক নির্যাতন


শ্রীপুর (গাজীপুর): গাজীপুরের শ্রীপুরে এক সৌদি আরব প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নারীকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন নিহতের স্বজনরা।


শুক্রবার (০৩ অক্টোবর ২০২৫) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বিন্দুবাড়ি গ্রামের আব্দুল জলিলের বাড়ি থেকে ইতি আক্তার (২১) নামের ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইতি আক্তার ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ঘিঘাট গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। প্রায় পাঁচ বছর আগে রাজাবাড়ী গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে মো. আক্তার হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের আফরিন নামে আড়াই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

ইতির স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই ইতি আক্তারকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিশেষ করে শাশুড়ি ও ননদ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। ইতির সুখের কথা ভেবে স্বামীর বাড়ির খরচে মো. আক্তার হোসেনকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাতেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। একাধিকবার নির্যাতিত হয়ে ইতি বাবার বাড়িতে চলে যেতে বাধ্য হন। এক মাস আগে স্বামী আক্তার হোসেন তাঁকে বুঝিয়ে শ্বশুরবাড়িতে রেখে পুনরায় সৌদিতে চলে যাওয়ার পরই এই ঘটনা ঘটল।

ইতির মা বিলকিছ অভিযোগ করে বলেন, "সকালে আমাকে ফোন করে দ্রুত ওই বাড়িতে যেতে বলা হয়। আমি সেখানে গিয়ে ঘরের বারান্দায় আমার মেয়ের মরদেহ দেখতে পাই। সে যদি আত্মহত্যাই করত, তবে লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় থাকত। বাড়ির লোকজন কেন লাশ নামালো? আমার মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে, এখন তারা আত্মহত্যার নাটক সাজাচ্ছে।"

ইতির ভাবী শারমিন অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, "আমরা সংসারের সুখের কথা ভেবে ইতির স্বামীকে বিদেশে পাঠিয়েছি। কিন্তু শাশুড়ি-ননদের নির্যাতন বন্ধ হয়নি। আজ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ইতির ননদ মিনারা ফোন করে শুধু দ্রুত যেতে বলেন। আমরা ছুটে গিয়ে বারান্দায় মরদেহ দেখতে পাই। তাদের দাবি, ইতি আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু ঘরের আড়ায় ওড়না বাঁধা থাকলেও ইতির গলায় একটি চিকন দাগ রয়েছে। আমরা মনে করি, বাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"

তবে এ বিষয়ে নিহত ইতির ননদ মিনারা জানান, "আমি কাজ করার সময় ভাবীকে ঘরে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। তখন বুঝতে পারিনি যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পরে দেখি তিনি গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে আছেন।"

ইতির দেবর আফজাল একই দাবি করে বলেন, "আমি ঘুম থেকে উঠে দাঁত মাজার সময় ভাবীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। কাছে গিয়ে দেখি সে ঝুলে আছে। আমরা দ্রুত তাকে নামাই এবং দেখি তিনি মারা গেছেন।"

ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আক্রাম হোসেন জানান, "খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বসত ঘরের বারান্দায় ওই নারীর মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। ঘরের আড়ায় একটি ওড়না বাঁধা ছিল। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে।"

শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক এ প্রসঙ্গে বলেন, "ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬


শ্রীপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার: শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ, নেপথ্যে পারিবারিক নির্যাতন

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৫

featured Image


শ্রীপুর (গাজীপুর): গাজীপুরের শ্রীপুরে এক সৌদি আরব প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নারীকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন নিহতের স্বজনরা।


শুক্রবার (০৩ অক্টোবর ২০২৫) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বিন্দুবাড়ি গ্রামের আব্দুল জলিলের বাড়ি থেকে ইতি আক্তার (২১) নামের ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইতি আক্তার ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ঘিঘাট গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। প্রায় পাঁচ বছর আগে রাজাবাড়ী গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে মো. আক্তার হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের আফরিন নামে আড়াই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

ইতির স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই ইতি আক্তারকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিশেষ করে শাশুড়ি ও ননদ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। ইতির সুখের কথা ভেবে স্বামীর বাড়ির খরচে মো. আক্তার হোসেনকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাতেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। একাধিকবার নির্যাতিত হয়ে ইতি বাবার বাড়িতে চলে যেতে বাধ্য হন। এক মাস আগে স্বামী আক্তার হোসেন তাঁকে বুঝিয়ে শ্বশুরবাড়িতে রেখে পুনরায় সৌদিতে চলে যাওয়ার পরই এই ঘটনা ঘটল।

ইতির মা বিলকিছ অভিযোগ করে বলেন, "সকালে আমাকে ফোন করে দ্রুত ওই বাড়িতে যেতে বলা হয়। আমি সেখানে গিয়ে ঘরের বারান্দায় আমার মেয়ের মরদেহ দেখতে পাই। সে যদি আত্মহত্যাই করত, তবে লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় থাকত। বাড়ির লোকজন কেন লাশ নামালো? আমার মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে, এখন তারা আত্মহত্যার নাটক সাজাচ্ছে।"

ইতির ভাবী শারমিন অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, "আমরা সংসারের সুখের কথা ভেবে ইতির স্বামীকে বিদেশে পাঠিয়েছি। কিন্তু শাশুড়ি-ননদের নির্যাতন বন্ধ হয়নি। আজ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ইতির ননদ মিনারা ফোন করে শুধু দ্রুত যেতে বলেন। আমরা ছুটে গিয়ে বারান্দায় মরদেহ দেখতে পাই। তাদের দাবি, ইতি আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু ঘরের আড়ায় ওড়না বাঁধা থাকলেও ইতির গলায় একটি চিকন দাগ রয়েছে। আমরা মনে করি, বাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"

তবে এ বিষয়ে নিহত ইতির ননদ মিনারা জানান, "আমি কাজ করার সময় ভাবীকে ঘরে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। তখন বুঝতে পারিনি যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পরে দেখি তিনি গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে আছেন।"

ইতির দেবর আফজাল একই দাবি করে বলেন, "আমি ঘুম থেকে উঠে দাঁত মাজার সময় ভাবীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। কাছে গিয়ে দেখি সে ঝুলে আছে। আমরা দ্রুত তাকে নামাই এবং দেখি তিনি মারা গেছেন।"

ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আক্রাম হোসেন জানান, "খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বসত ঘরের বারান্দায় ওই নারীর মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। ঘরের আড়ায় একটি ওড়না বাঁধা ছিল। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে।"

শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক এ প্রসঙ্গে বলেন, "ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত