ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আইসিটি সেলের চরম অযোগ্যতা
ও উদাসীনতায় আধুনিক সেবার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ই-ট্রেড
লাইসেন্স নবায়ন বা সংশোধন করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
আইসিটি সেলের অকার্যকর ভূমিকার কারণে ধলপুর সিটি কর্পোরেশন আঞ্চলিক কার্যালয়ে কর্মকর্তা
ও গ্রাহকদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডার মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও এখন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ধলপুরে ধুন্দুমার:
আইসিটি সেলের ওপর দায় চাপালেন কর্মকর্তারাও
গত মঙ্গলবার ধলপুর সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে
ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে আসা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে লাইসেন্স সুপারভাইজারের তীব্র বাক-বিতণ্ডা
ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গ্রাহকদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও সফটওয়্যার
জটিলতার অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
পুরো ঘটনার বিষয়ে উপস্থিত সিটি কর্পোরেশনের
উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বিস্ময়করভাবে নিজেদের আইসিটি সেলের বিরুদ্ধেই
ক্ষোভ উগরে দেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, "আমরা সেবা দিতে
চাই, কিন্তু আইসিটি সেলের অযোগ্যতায় আমাদের হাত-পা বাঁধা। ই-ট্রেড লাইসেন্সের সিস্টেমটি
এতটাই ত্রুটিপূর্ণ যে, সামান্য কাজের জন্য আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
আইসিটি সেলের চরম হীনম্মন্যতা ও উদাসীনতাই আজ গ্রাহক ভোগান্তির মূল কারণ।"
ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি
চরমে
ট্রেড লাইসেন্স করতে আসা এক ক্ষুব্ধ
ব্যবসায়ী জানান, অনলাইন সিস্টেম সহজ করার কথা থাকলেও ডিএসসিসি’র ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টো। এ যেন এক ডিজিটাল
গোলকধাঁধা। আইসিটি সেলের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনায়
বিঘ্ন ঘটছে, যা পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অকার্যকর আইসিটি সেল:
ডিজিটাল সেবার অন্তরায়
ডিএসসিসি’র আইসিটি সেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়
জমলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আইসিটি সেলে কারিগরি
জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনবল না থাকায় এবং তদারকির অভাবে পুরো সিস্টেমটি এখন অকেজো প্রায়।
ডিজিটাল সেবার নামে সাধারণ মানুষকে অফিসে অফিসে দৌড়ানো কেবল প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়।
"আমরা ডিজিটাল সেবার কথা বলছি,
কিন্তু মাঠপর্যায়ে আইসিটি সেলের গাফিলতির কারণে মানুষ কেবল ভোগান্তিই পাচ্ছে। এই ব্যর্থতার
দায় আইসিটি সেলকেই নিতে হবে।"— ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সমাজ
দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এই অব্যবস্থাপনা
দূর করতে এবং আইসিটি সেলকে ঢেলে সাজাতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা
করছেন নগরবাসী। অন্যথায়, দুর্নীতির পথ আরও সুগম হবে এবং সরকারি সেবার প্রতি মানুষের
আস্থার সংকট তৈরি হবে।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আইসিটি সেলের চরম অযোগ্যতা
ও উদাসীনতায় আধুনিক সেবার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ই-ট্রেড
লাইসেন্স নবায়ন বা সংশোধন করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
আইসিটি সেলের অকার্যকর ভূমিকার কারণে ধলপুর সিটি কর্পোরেশন আঞ্চলিক কার্যালয়ে কর্মকর্তা
ও গ্রাহকদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডার মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও এখন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ধলপুরে ধুন্দুমার:
আইসিটি সেলের ওপর দায় চাপালেন কর্মকর্তারাও
গত মঙ্গলবার ধলপুর সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে
ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে আসা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে লাইসেন্স সুপারভাইজারের তীব্র বাক-বিতণ্ডা
ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গ্রাহকদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও সফটওয়্যার
জটিলতার অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
পুরো ঘটনার বিষয়ে উপস্থিত সিটি কর্পোরেশনের
উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বিস্ময়করভাবে নিজেদের আইসিটি সেলের বিরুদ্ধেই
ক্ষোভ উগরে দেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, "আমরা সেবা দিতে
চাই, কিন্তু আইসিটি সেলের অযোগ্যতায় আমাদের হাত-পা বাঁধা। ই-ট্রেড লাইসেন্সের সিস্টেমটি
এতটাই ত্রুটিপূর্ণ যে, সামান্য কাজের জন্য আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
আইসিটি সেলের চরম হীনম্মন্যতা ও উদাসীনতাই আজ গ্রাহক ভোগান্তির মূল কারণ।"
ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি
চরমে
ট্রেড লাইসেন্স করতে আসা এক ক্ষুব্ধ
ব্যবসায়ী জানান, অনলাইন সিস্টেম সহজ করার কথা থাকলেও ডিএসসিসি’র ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টো। এ যেন এক ডিজিটাল
গোলকধাঁধা। আইসিটি সেলের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনায়
বিঘ্ন ঘটছে, যা পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অকার্যকর আইসিটি সেল:
ডিজিটাল সেবার অন্তরায়
ডিএসসিসি’র আইসিটি সেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়
জমলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আইসিটি সেলে কারিগরি
জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনবল না থাকায় এবং তদারকির অভাবে পুরো সিস্টেমটি এখন অকেজো প্রায়।
ডিজিটাল সেবার নামে সাধারণ মানুষকে অফিসে অফিসে দৌড়ানো কেবল প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়।
"আমরা ডিজিটাল সেবার কথা বলছি,
কিন্তু মাঠপর্যায়ে আইসিটি সেলের গাফিলতির কারণে মানুষ কেবল ভোগান্তিই পাচ্ছে। এই ব্যর্থতার
দায় আইসিটি সেলকেই নিতে হবে।"— ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সমাজ
দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এই অব্যবস্থাপনা
দূর করতে এবং আইসিটি সেলকে ঢেলে সাজাতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা
করছেন নগরবাসী। অন্যথায়, দুর্নীতির পথ আরও সুগম হবে এবং সরকারি সেবার প্রতি মানুষের
আস্থার সংকট তৈরি হবে।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন