ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

জকসু নির্বাচন ২০২৬: বিজয় পরবর্তী 'নারায়ে তাকবীর' স্লোগান দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন সেই ‘শান্তা আক্তার’



জকসু নির্বাচন ২০২৬: বিজয় পরবর্তী  'নারায়ে তাকবীর' স্লোগান দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন সেই ‘শান্তা আক্তার’

​দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেলে ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। গত ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মেরুকরণ দেখা গেছে। বিশেষত, এবারের নির্বাচনে "নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার" স্লোগানটি শিক্ষার্থীদের আবেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া এবং ফলাফলে তার প্রতিফলন ঘটা ছিল সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।

​নির্বাচন পেছানো ও পটভূমি

নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী জকসু নির্বাচন গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে অনিবার্য কারণবশত কর্তৃপক্ষ তা স্থগিত করে এবং পরবর্তীতে ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখকে নির্বাচনের দিন হিসেবে ধার্য করে। এই বিলম্ব শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ ও উত্তেজনার জন্ম দিলেও ভোটের দিন তারা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

​স্লোগান বিতর্ক ও মাইক কাড়াকাড়ির ঘটনা

৩০ শে ডিসেম্বরের ঘোষিত তাফসিল অনুযায়ী জকসি নির্বাচন স্থগিত হলে শিক্ষার্থীরা যখন প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে "নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার" স্লোগান দিচ্ছিলেন, তখন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে,  নির্বাচনে শিবির প্যানেল থেকে  প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা  এক নারী শিক্ষার্থীর শান্তা আক্তার   যখন মাইকে এই স্লোগান উচ্চারণ করেন, তখন ছাত্রদল সমর্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী তার কাছ থেকে জোরপূর্বক মাইক কেড়ে নেন।

​এই ঘটনাটি ক্যাম্পাসে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর ধর্মীয় এবং অনুভূতির উপর আঘাত হিসেবে গ্রহণ করেন । ফলে, এই স্লোগানটি আর কেবল মাত্র একটি স্লোগান হিসেবে  সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, মাইক কেড়ে নেওয়ার ওই ঘটনাটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সহানুভূতি শিবিরের প্যানেলের দিকে ধাবিত করতে বড় ভূমিকা রেখেছে। 

নির্বাচন পরবর্তী ফলাফলে দেখা যায় সেই শান্তা আক্তার সবকটি কেন্দ্রে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে। বিজয় পরবর্তী নারায় তাকবীর স্লোগান দিতে গিয়ে তিনি কেঁদে ফেলেন। 

​ফলাফল ও বিজয়

৭ জানুয়ারি ২০২৬ ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ভিপি (সহ-সভাপতি) পদে রিয়াজুল ইসলাম এবং জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে আব্দুল আলিম আরিফসহ প্যানেলের প্রায় সকল প্রার্থী বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ছাত্রদল ও বাম জোটের প্যানেলগুলোর ভরাডুবি হয়েছে।

​জকসুর নবনির্বাচিত ভিপি রিয়াজুল ইসলাম তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "এই বিজয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিজয়। তারা ক্যাম্পাসে সুস্থ রাজনীতির চর্চা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি যে আস্থা দেখিয়েছে, আমরা তার প্রতিদান দিতে বদ্ধপরিকর।"

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই নির্বাচন একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। বিশেষ করে, স্লোগানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক এবং পরবর্তীতে ব্যালটের মাধ্যমে তার জবাব দেওয়ার ঘটনাটি ছাত্র রাজনীতির নতুন মোড় নির্দেশ করছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে জবি শিক্ষার্থীরা মূলত "নারায়ে তাকবীর" স্লোগানকে বিজয়ী করার মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে শিবিরের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করল।

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬


জকসু নির্বাচন ২০২৬: বিজয় পরবর্তী 'নারায়ে তাকবীর' স্লোগান দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন সেই ‘শান্তা আক্তার’

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

​দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেলে ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। গত ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মেরুকরণ দেখা গেছে। বিশেষত, এবারের নির্বাচনে "নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার" স্লোগানটি শিক্ষার্থীদের আবেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া এবং ফলাফলে তার প্রতিফলন ঘটা ছিল সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।

​নির্বাচন পেছানো ও পটভূমি

নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী জকসু নির্বাচন গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে অনিবার্য কারণবশত কর্তৃপক্ষ তা স্থগিত করে এবং পরবর্তীতে ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখকে নির্বাচনের দিন হিসেবে ধার্য করে। এই বিলম্ব শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ ও উত্তেজনার জন্ম দিলেও ভোটের দিন তারা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

​স্লোগান বিতর্ক ও মাইক কাড়াকাড়ির ঘটনা

৩০ শে ডিসেম্বরের ঘোষিত তাফসিল অনুযায়ী জকসি নির্বাচন স্থগিত হলে শিক্ষার্থীরা যখন প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে "নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার" স্লোগান দিচ্ছিলেন, তখন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে,  নির্বাচনে শিবির প্যানেল থেকে  প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা  এক নারী শিক্ষার্থীর শান্তা আক্তার   যখন মাইকে এই স্লোগান উচ্চারণ করেন, তখন ছাত্রদল সমর্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী তার কাছ থেকে জোরপূর্বক মাইক কেড়ে নেন।

​এই ঘটনাটি ক্যাম্পাসে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর ধর্মীয় এবং অনুভূতির উপর আঘাত হিসেবে গ্রহণ করেন । ফলে, এই স্লোগানটি আর কেবল মাত্র একটি স্লোগান হিসেবে  সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, মাইক কেড়ে নেওয়ার ওই ঘটনাটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সহানুভূতি শিবিরের প্যানেলের দিকে ধাবিত করতে বড় ভূমিকা রেখেছে। 

নির্বাচন পরবর্তী ফলাফলে দেখা যায় সেই শান্তা আক্তার সবকটি কেন্দ্রে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে। বিজয় পরবর্তী নারায় তাকবীর স্লোগান দিতে গিয়ে তিনি কেঁদে ফেলেন। 

​ফলাফল ও বিজয়

৭ জানুয়ারি ২০২৬ ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ভিপি (সহ-সভাপতি) পদে রিয়াজুল ইসলাম এবং জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে আব্দুল আলিম আরিফসহ প্যানেলের প্রায় সকল প্রার্থী বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ছাত্রদল ও বাম জোটের প্যানেলগুলোর ভরাডুবি হয়েছে।

​জকসুর নবনির্বাচিত ভিপি রিয়াজুল ইসলাম তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "এই বিজয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিজয়। তারা ক্যাম্পাসে সুস্থ রাজনীতির চর্চা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি যে আস্থা দেখিয়েছে, আমরা তার প্রতিদান দিতে বদ্ধপরিকর।"

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই নির্বাচন একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। বিশেষ করে, স্লোগানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক এবং পরবর্তীতে ব্যালটের মাধ্যমে তার জবাব দেওয়ার ঘটনাটি ছাত্র রাজনীতির নতুন মোড় নির্দেশ করছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে জবি শিক্ষার্থীরা মূলত "নারায়ে তাকবীর" স্লোগানকে বিজয়ী করার মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে শিবিরের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করল।


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত