ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

কুবিতে আবাসিক হলে ঢুকে ছাত্রদল নেতা কর্তৃক শিক্ষার্থীকে মারধর



কুবিতে আবাসিক হলে ঢুকে ছাত্রদল নেতা কর্তৃক শিক্ষার্থীকে মারধর
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান কর্তৃক হলের দুই আবাসিক শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হয়েছেন। অভিযুক্ত আতিকুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ছাদে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীরা হলেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২২২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৌরভ কাব্য এবং অর্থনীতি বিভাগের ২০২২২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌফায়েল মাহমুদ নিবির। প্রতিবেদন লেখার আগে পর্যন্ত সৌরভ কাব্য হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হলের ছাদে ওই দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে আতিকুর রহমানের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আতিকুর রহমান নিবিড়কে চড় মারেন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে আতিকুর তাকে ধাক্কা দেন ফলে পরে গিয়ে তার হাতের কনুইয়ে আঘাত লাগে। পরবর্তীতে সৌরভ কাব্য বিষয়টির প্রতিবাদ করতে গেলে আতিকুর তার নাকে সজোরে ঘুষি মারেন। যার ফলে সৌরভের নাক দিয়ে রক্তপাত শুরু হয়। একপর্যায়ে হলের শিক্ষার্থীরা বের হয়ে ঝামেলা দেখে আতিকুরকে ধাওয়া দেন। সর্বশেষ জানা গেছে আতিকুর ধাওয়ার পর পালিয়ে একটি মেসে আশ্রয় নিয়েছেন।

জানা গেছে, আতিকুর রহমান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও তিনি বলপ্রয়োগ করে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ৫০০২ কক্ষে একটি সিট দখল করে গত চার দিন ধরে হলে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অনুসারীদের নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে ওঠানোর অভিযোগও করেছেন শিক্ষার্থীরা।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ৫০০২ নাম্বার রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ' ওনি আমার রুমে আমার গেস্ট হিসেবে ছিল। এইরকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাবে তা আমার জানা ছিল না।'

মারধরের শিকার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তৌফায়েল মাহমুদ নিবির বলেন, আমরা কয়েকজন হলের নিচে বসে গল্প করছিলাম। এমন সময় আতিক সেখানে এসে হলে উঠার কথা বলেন। তখন আমি তাকে জানাই যে, নিয়ম মেনে প্রভোস্টের মাধ্যমে আসতে হবে। আমার কথা শুনে আতিক হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে আমার কলার ধরে চড় মারেন। পরবর্তীতে আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। সৌরভ সেটার প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে নাকে-মুখে ঘুষি দিতে থাকেন। এ সময় আঘাতে সৌরভের নাক ফেটে যায়। পরে হলের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে আতিক ও সাইফুল সেখান থেকে পালিয়ে যায়।'

কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, 'এটা একটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা যা খুবই দুঃখজনক। এটা সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্ধের কারণে হয়েছে কিনা সেটা দেখতে হবে। এতে যেই অপরাধী হবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

হলে ছাত্রদলের কর্মীদের সিটে ওঠা নিয়ে তিনি বলেন, ' হলগুলো মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য। জুনিয়ররা যেখানে থাকার কথা সেখানে থাকবে, সিনিয়ররা যেখানে থাকার কথা সেখানেই থাকবে। হলের নির্দিষ্ট যে নিয়ম আছে, সেই নিয়ম অনুযায়ীই সবকিছু চলবে। ছাত্রদলের অনেক শিক্ষার্থী হলের বাইরে থাকেন। আবার অনেক দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থী হলে থাকার চেষ্টা করেন। গত ১৮ মাসে শুধুই ছাত্রদল করার কারণে হলে অবস্থান করছে এমন কোনো নজির কেউ দেখাতে পারবে না এবং এ ধরনের কোনো ঘটনাও ঘটেনি। তবে আতিকুরের হলে থাকার বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। এ বিষয়ে ছাত্রদল সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেবে '

ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আতিকুর রহমানকে মুঠোফোন একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন কেটে দেন দত্ত হলের প্রভোস্ট জনি আলম বলেন, 'আজকের বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি এবং আমি ইতিমধ্যে হাউস টিউটরদের সাথে কথা বলেছি তারাসহ আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি এবং এবিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

সিট দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ' আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরে এখনো কাউকে সিট দেওয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত অনেকেই হলে সিট পাওয়ার বিষয় নিয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করেছে। যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে আমরা তাদেরকেই হলে সিট দিবো যাদের ছাত্রত্ব আছে যাদের ছাত্রত্ব নেই তাদের হলে সিট পাওয়ার সুযোগ নেই।'

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : কুবি শিক্ষার্থীকে মারধর ছাত্রদল নেতা

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


কুবিতে আবাসিক হলে ঢুকে ছাত্রদল নেতা কর্তৃক শিক্ষার্থীকে মারধর

প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান কর্তৃক হলের দুই আবাসিক শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হয়েছেন। অভিযুক্ত আতিকুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ছাদে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীরা হলেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২২২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৌরভ কাব্য এবং অর্থনীতি বিভাগের ২০২২২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌফায়েল মাহমুদ নিবির। প্রতিবেদন লেখার আগে পর্যন্ত সৌরভ কাব্য হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হলের ছাদে ওই দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে আতিকুর রহমানের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আতিকুর রহমান নিবিড়কে চড় মারেন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে আতিকুর তাকে ধাক্কা দেন ফলে পরে গিয়ে তার হাতের কনুইয়ে আঘাত লাগে। পরবর্তীতে সৌরভ কাব্য বিষয়টির প্রতিবাদ করতে গেলে আতিকুর তার নাকে সজোরে ঘুষি মারেন। যার ফলে সৌরভের নাক দিয়ে রক্তপাত শুরু হয়। একপর্যায়ে হলের শিক্ষার্থীরা বের হয়ে ঝামেলা দেখে আতিকুরকে ধাওয়া দেন। সর্বশেষ জানা গেছে আতিকুর ধাওয়ার পর পালিয়ে একটি মেসে আশ্রয় নিয়েছেন।

জানা গেছে, আতিকুর রহমান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও তিনি বলপ্রয়োগ করে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ৫০০২ কক্ষে একটি সিট দখল করে গত চার দিন ধরে হলে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অনুসারীদের নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে ওঠানোর অভিযোগও করেছেন শিক্ষার্থীরা।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ৫০০২ নাম্বার রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ' ওনি আমার রুমে আমার গেস্ট হিসেবে ছিল। এইরকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাবে তা আমার জানা ছিল না।'

মারধরের শিকার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তৌফায়েল মাহমুদ নিবির বলেন, আমরা কয়েকজন হলের নিচে বসে গল্প করছিলাম। এমন সময় আতিক সেখানে এসে হলে উঠার কথা বলেন। তখন আমি তাকে জানাই যে, নিয়ম মেনে প্রভোস্টের মাধ্যমে আসতে হবে। আমার কথা শুনে আতিক হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে আমার কলার ধরে চড় মারেন। পরবর্তীতে আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। সৌরভ সেটার প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে নাকে-মুখে ঘুষি দিতে থাকেন। এ সময় আঘাতে সৌরভের নাক ফেটে যায়। পরে হলের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে আতিক ও সাইফুল সেখান থেকে পালিয়ে যায়।'

কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, 'এটা একটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা যা খুবই দুঃখজনক। এটা সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্ধের কারণে হয়েছে কিনা সেটা দেখতে হবে। এতে যেই অপরাধী হবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

হলে ছাত্রদলের কর্মীদের সিটে ওঠা নিয়ে তিনি বলেন, ' হলগুলো মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য। জুনিয়ররা যেখানে থাকার কথা সেখানে থাকবে, সিনিয়ররা যেখানে থাকার কথা সেখানেই থাকবে। হলের নির্দিষ্ট যে নিয়ম আছে, সেই নিয়ম অনুযায়ীই সবকিছু চলবে। ছাত্রদলের অনেক শিক্ষার্থী হলের বাইরে থাকেন। আবার অনেক দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থী হলে থাকার চেষ্টা করেন। গত ১৮ মাসে শুধুই ছাত্রদল করার কারণে হলে অবস্থান করছে এমন কোনো নজির কেউ দেখাতে পারবে না এবং এ ধরনের কোনো ঘটনাও ঘটেনি। তবে আতিকুরের হলে থাকার বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। এ বিষয়ে ছাত্রদল সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেবে '

ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আতিকুর রহমানকে মুঠোফোন একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন কেটে দেন দত্ত হলের প্রভোস্ট জনি আলম বলেন, 'আজকের বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি এবং আমি ইতিমধ্যে হাউস টিউটরদের সাথে কথা বলেছি তারাসহ আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি এবং এবিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

সিট দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ' আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরে এখনো কাউকে সিট দেওয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত অনেকেই হলে সিট পাওয়ার বিষয় নিয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করেছে। যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে আমরা তাদেরকেই হলে সিট দিবো যাদের ছাত্রত্ব আছে যাদের ছাত্রত্ব নেই তাদের হলে সিট পাওয়ার সুযোগ নেই।'

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত