ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নতুন ভবন থেকে লাফিয়ে নিচে পড়ে নাজমিন আক্তার (২০) নামে এক রোগী ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। তিনি কিডনি ও হার্টের সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালটির মেডিসিন বিভাগে ভর্তি ছিলেন। আজ রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার ।
নাজমিন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর বিশ্বাস গ্রামের জালাল খন্দকারের মেয়ে। তার চার মাস বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে, যার নাম জুবায়ের হোসেন।
নাজমিনের বাবা দিনমজুর জালাল খন্দকার জানান, এক সপ্তাহ আগে নাজমিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অষ্টম তলার ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। কিডনি ও হার্টের সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতা ছিল তার। এর আগেও তিনি আড়াই মাস হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। রোববার সন্ধ্যায় বাবা জালাল খন্দকার খাবার পানি সংগ্রহের জন্য ওয়ার্ড থেকে নিচে নামেন। কিছুক্ষণ পর নাজমিন তার মা শিল্পী বেগমকেও পানি আনতে নিচে পাঠান। বাবা পানি নিয়ে ভবনে ওঠার পথে নিচে মানুষের জটলা দেখতে পান। এগিয়ে গিয়ে দেখেন, তার মেয়েই মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। তখন জানতে পারেন, কিছুক্ষণ আগে ভবনের ওপর থেকে লাফিয়ে নিচে পড়েছিলেন নাজমিন।
নাজমিনের বাবা
আরও জানান, চার-পাঁচ বছর আগে পাশের গ্রামের রায়হান নামে এক যুবকের সঙ্গে নাজমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর অন্তঃসত্ত্বা হলে সাত মাস চলাকালে স্বামী ও তার জা মিলে জোরপূর্বক তার গর্ভপাত ঘটান। এরপর থেকেই নাজমিনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এ পর্যন্ত বাবা নিজে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে বিভিন্ন জায়গায় তার চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। কিন্তু চিকিৎসার কোনো খরচ দিতেন না স্বামী রায়হান। এর ওপর নাজমিনকে মারধরও করতেন তিনি। এসব কারণেই নাজমিন প্রায়ই হতাশাজনক কথাবার্তা বলতেন এবং বাঁচবেন না বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলতেন।
নতুন ভবনের ওয়ার্ড মাস্টার মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, নাজমিন মেডিসিন বিভাগে ভর্তি থাকা রোগী ছিলেন। তিনি অষ্টম তলা থেকে লাফিয়ে নিচে পার্কিংয়ে থাকা একটি প্রাইভেটকারের ওপর পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল পরিচালককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শাহবাগ থানা পুলিশকেও জানানো হয়েছে।
এমএইছ
/ ধ্রুবকন্ঠ
বিষয় : ঢামেক রোগীর মৃত্যু
.png)
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নতুন ভবন থেকে লাফিয়ে নিচে পড়ে নাজমিন আক্তার (২০) নামে এক রোগী ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। তিনি কিডনি ও হার্টের সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালটির মেডিসিন বিভাগে ভর্তি ছিলেন। আজ রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার ।
নাজমিন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর বিশ্বাস গ্রামের জালাল খন্দকারের মেয়ে। তার চার মাস বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে, যার নাম জুবায়ের হোসেন।
নাজমিনের বাবা দিনমজুর জালাল খন্দকার জানান, এক সপ্তাহ আগে নাজমিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অষ্টম তলার ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। কিডনি ও হার্টের সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতা ছিল তার। এর আগেও তিনি আড়াই মাস হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। রোববার সন্ধ্যায় বাবা জালাল খন্দকার খাবার পানি সংগ্রহের জন্য ওয়ার্ড থেকে নিচে নামেন। কিছুক্ষণ পর নাজমিন তার মা শিল্পী বেগমকেও পানি আনতে নিচে পাঠান। বাবা পানি নিয়ে ভবনে ওঠার পথে নিচে মানুষের জটলা দেখতে পান। এগিয়ে গিয়ে দেখেন, তার মেয়েই মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। তখন জানতে পারেন, কিছুক্ষণ আগে ভবনের ওপর থেকে লাফিয়ে নিচে পড়েছিলেন নাজমিন।
নাজমিনের বাবা
আরও জানান, চার-পাঁচ বছর আগে পাশের গ্রামের রায়হান নামে এক যুবকের সঙ্গে নাজমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর অন্তঃসত্ত্বা হলে সাত মাস চলাকালে স্বামী ও তার জা মিলে জোরপূর্বক তার গর্ভপাত ঘটান। এরপর থেকেই নাজমিনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এ পর্যন্ত বাবা নিজে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে বিভিন্ন জায়গায় তার চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। কিন্তু চিকিৎসার কোনো খরচ দিতেন না স্বামী রায়হান। এর ওপর নাজমিনকে মারধরও করতেন তিনি। এসব কারণেই নাজমিন প্রায়ই হতাশাজনক কথাবার্তা বলতেন এবং বাঁচবেন না বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলতেন।
নতুন ভবনের ওয়ার্ড মাস্টার মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, নাজমিন মেডিসিন বিভাগে ভর্তি থাকা রোগী ছিলেন। তিনি অষ্টম তলা থেকে লাফিয়ে নিচে পার্কিংয়ে থাকা একটি প্রাইভেটকারের ওপর পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল পরিচালককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শাহবাগ থানা পুলিশকেও জানানো হয়েছে।
এমএইছ
/ ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন