ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“মিস ইউনিভার্সে সুইমস্যুট ও বিকিনি পর্ব: নারীর উদাম শরীর প্রদর্শনে তীব্র বিতর্ক”



“মিস ইউনিভার্সে সুইমস্যুট ও বিকিনি পর্ব: নারীর উদাম শরীর প্রদর্শনে তীব্র বিতর্ক”
ছবি মো: সালমান ফারসী

মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা ঘিরে মুসলিম বিশ্বে সমালোচনা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। ইসলামী পণ্ডিত এবং সমাজ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক বিউটি পেজেন্ট নারীকে শারীরিক প্রদর্শনীর বস্তুতে পরিণত করে, যা মুসলিম সমাজের ধর্মীয় মূল্যবোধ, শালীনতা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে প্রতিযোগিতার বাধ্যতামূলক সুইমস্যুট রাউন্ড নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের আপত্তি সবচেয়ে বেশি।

সমালোচকরা বলেন, বিকিনি পরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে হাঁটা শুধু ব্যক্তিগতভাবে নারীর জন্য অবমাননাকরই নয়, বরং দেশের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিচ্ছবিকেও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে। ইসলামী পণ্ডিতদের ভাষ্য, মুসলিম নারীকে এভাবে প্রকাশ্যে উন্মুক্ত দেহ প্রদর্শনে বাধ্য করা তাদের মর্যাদা ও সম্মানের পরিপন্থী। সমাজের বিস্তৃত অংশও মনে করছে, আধুনিকতা বা আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্বের নামে কোনোভাবেই ধর্মীয় শালীনতা বা জাতীয় মূল্যবোধ বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়।

অনেকের মতে, মুসলিম বিশ্বের নারীরা তাদের যোগ্যতা, মেধা, দক্ষতা ও অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াতে পারেন—কিন্তু তা অবশ্যই শালীনতা ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় বজায় রেখেই হওয়া উচিত। পশ্চিমা বিনোদন শিল্পের অনুকরণে শারীরিক প্রদর্শনভিত্তিক প্রতিযোগিতাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মানদণ্ড হিসেবে মেনে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তারা।

সমাজ বিশ্লেষকরা আরও বলেন, “নারী শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়—তিনি মা, বোন, কন্যা এবং সমাজের ভিত্তি। তাদেরকে বিকিনি পরিহিত প্রদর্শনীর মাধ্যমে মূল্যায়ন করা নারীর সম্মানকে ছোট করে।”

এই বিতর্ককে ঘিরে অনেকেই দাবি তুলেছেন, মুসলিম দেশের অংশগ্রহণকারীদের এসব প্রতিযোগিতা থেকে বিরত রাখা উচিত এবং একইসঙ্গে বিকল্প, মর্যাদাপূর্ণ, জ্ঞানভিত্তিক ও নৈতিক মূল্যবোধসম্মত আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির আহ্বান জানান।

মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা নিয়ে মুসলিম সমাজে এমন বিতর্ক নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক অংশগ্রহণগুলোকে কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় আবারও প্রমাণ করেছে—ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে গেলে মুসলিম বিশ্ব কখনোই নীরব থাকে না।

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬


“মিস ইউনিভার্সে সুইমস্যুট ও বিকিনি পর্ব: নারীর উদাম শরীর প্রদর্শনে তীব্র বিতর্ক”

প্রকাশের তারিখ : ২০ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা ঘিরে মুসলিম বিশ্বে সমালোচনা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। ইসলামী পণ্ডিত এবং সমাজ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক বিউটি পেজেন্ট নারীকে শারীরিক প্রদর্শনীর বস্তুতে পরিণত করে, যা মুসলিম সমাজের ধর্মীয় মূল্যবোধ, শালীনতা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে প্রতিযোগিতার বাধ্যতামূলক সুইমস্যুট রাউন্ড নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের আপত্তি সবচেয়ে বেশি।

সমালোচকরা বলেন, বিকিনি পরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে হাঁটা শুধু ব্যক্তিগতভাবে নারীর জন্য অবমাননাকরই নয়, বরং দেশের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিচ্ছবিকেও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে। ইসলামী পণ্ডিতদের ভাষ্য, মুসলিম নারীকে এভাবে প্রকাশ্যে উন্মুক্ত দেহ প্রদর্শনে বাধ্য করা তাদের মর্যাদা ও সম্মানের পরিপন্থী। সমাজের বিস্তৃত অংশও মনে করছে, আধুনিকতা বা আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্বের নামে কোনোভাবেই ধর্মীয় শালীনতা বা জাতীয় মূল্যবোধ বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়।

অনেকের মতে, মুসলিম বিশ্বের নারীরা তাদের যোগ্যতা, মেধা, দক্ষতা ও অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াতে পারেন—কিন্তু তা অবশ্যই শালীনতা ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় বজায় রেখেই হওয়া উচিত। পশ্চিমা বিনোদন শিল্পের অনুকরণে শারীরিক প্রদর্শনভিত্তিক প্রতিযোগিতাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মানদণ্ড হিসেবে মেনে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তারা।

সমাজ বিশ্লেষকরা আরও বলেন, “নারী শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়—তিনি মা, বোন, কন্যা এবং সমাজের ভিত্তি। তাদেরকে বিকিনি পরিহিত প্রদর্শনীর মাধ্যমে মূল্যায়ন করা নারীর সম্মানকে ছোট করে।”

এই বিতর্ককে ঘিরে অনেকেই দাবি তুলেছেন, মুসলিম দেশের অংশগ্রহণকারীদের এসব প্রতিযোগিতা থেকে বিরত রাখা উচিত এবং একইসঙ্গে বিকল্প, মর্যাদাপূর্ণ, জ্ঞানভিত্তিক ও নৈতিক মূল্যবোধসম্মত আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির আহ্বান জানান।

মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা নিয়ে মুসলিম সমাজে এমন বিতর্ক নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক অংশগ্রহণগুলোকে কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় আবারও প্রমাণ করেছে—ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে গেলে মুসলিম বিশ্ব কখনোই নীরব থাকে না।


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত