ইসলামের বরকতময় সময়গুলোর মধ্যে কিছু রাত রয়েছে, যেগুলো বান্দার আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন এবং দোয়ার মাধ্যমে নৈকট্য অর্জনের বিশেষ সুযোগ এনে দেয়। এসব রাত মানুষের অন্তরকে জাগ্রত করে, গাফিলতি ভেঙে দেয় এবং নতুনভাবে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার আহ্বান জানায়। ঠিক তেমনই এক তাৎপর্যপূর্ণ রাত হলো শাবান মাসের মধ্যরাত, যা মুসলিম সমাজে ‘শবে বরাত’ নামে সুপরিচিত।
এই রাতকে কেন্দ্র করে যুগে যুগে মুসলমানদের মধ্যে ইবাদত, দোয়া ও আত্মসমালোচনার একটি ধারাবাহিক ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে।
যদিও কোরআনে এ রাতের বিষয়ে সরাসরি কোনো বিধান নেই, তবে হাদিস ও সালাফে সালেহিনের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়—এটি দোয়া কবুল ও আল্লাহর রহমত লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে একই সঙ্গে এ রাতের আমল সম্পর্কে ভারসাম্য, সুন্নাহর অনুসরণ এবং অতিরঞ্জন পরিহার করাও অপরিহার্য।
নিম্নে নিসফা শাবানের রাতের ফজিলত, দোয়া কবুলের গুরুত্ব এবং এ রাতে পাঠযোগ্য কিছু মাসনুন দোয়া হাদিস ও প্রামাণ্য সূত্রের আলোকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো, যাতে একজন মুমিন সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই বরকতময় সময়কে কাজে লাগাতে পারেন।
নিসফা
শাবানের রাতের
দোয়া আল্লাহ
তাআলা কবুল
করেন। তাই বেশি বেশি দোয়া করা উত্তম। হাদিসে এসেছে- ‘আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, পাঁচটি রাত এমন আছে, যে রাতে বান্দার কোনো দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না। আর তা হলো-
১. জুমআর রাতের দোয়া।
২. রজব মাসের প্রথম রাতের দোয়া।
৩.
নিসফা শাবান
তথা অর্ধ
শাবানের রাতের
দোয়া।
৪.
ঈদুল ফিতর
তথা রোজার
ঈদের রাতের
দোয়া।
৫.
ঈদুল আজহা
তথা কুরবানির
ঈদের রাতের
দোয়া।’ (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক)
ইমাম
শাফেঈ রহমাতুল্লাহি
আলাইহি বলেন,
‘আমাদের কাছে
পৌঁছেছে যে,
পাঁচটি রাতে
দোয়া বেশি
বেশি কবুল
করা হয়।
জুমআর রাত,
ঈদুল আজহার
রাত, ঈদুল
ফিতরের রাত,
রজব মাসের
প্রথম রাত
এবং নিসফা
শাবান তথা
শাবানের ১৫তম
রাতের দোয়া।
’ (কিতাবুল
উম্ম, আস-সুনানুল
কুবরা)
তাই
এ গুরুত্বপূর্ণ
রাতে মহান
আল্লাহর অনুগ্রহ
লাভ করতে
নিচের দোয়াগুলো
বেশি বেশি
পড়তে পারেন-
رَبِّ أَوْزِعْنِىٓ
أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِىٓ أَنْعَمْتَ عَلَىَّ وَعَلٰى وٰلِدَىَّ وَأَنْ
أَعْمَلَ صٰلِحًا تَرْضٰىهُ وَأَدْخِلْنِى بِرَحْمَتِكَ فِى عِبَادِكَ
الصّٰلِحِينَ
উচ্চারণ:
রাব্বি আওঝি'নি
আন আশকুরা
নি'মাতাকাল্লাতি
আনআমতা আলাইয়্যা
ওয়া আলা
ওয়ালিদাইয়্যা
ওয়া আন
আ'মালা
সালেহাং তারদাহু
ওয়া আদখিলনি
বিরাহমাতিকা
ফি ইবাদিকাস
সালিহিন।' (সুরা
নামল : আয়াত
১৯)
اَللَّهُمَّ اِنِّى
اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ
وَالْبُخْلِ وَ ضَلَعِ الدَّيْنِ وَ غَلَبَةِ الرِّجَالِ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা
ইন্নি আউজুবিকা
মিনাল হাম্মি
ওয়াল হাযানি
ওয়াল আজযি
ওয়াল কাসালি,
ওয়াল জুবনি
ওয়াল বুখলি
ওয়া দালায়িদ
দাইনি ওয়া
গালাবাতিল রিজালি।’
(বুখারি ও
মুসলিম, মিশকাত)
اَللَّهُمَّ اِنِّى
اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَاَعُوْذُبِكَ مِنَ الْبُخْلِ وَاَعُوْذُبِكَ مِن
اَرْذَلِ الْعُمُرِ وَ اَعُوْذُبِكَ مِن فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَ عَذَابِ الْقَبْرِ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা
ইন্নি আউজুবিকা
মিনাল জুবনি
ওয়া আউজুবিকা
মিনাল বুখলি
ওয়া আউজুবিকা
মিন আরজালিল
উমুরি ওয়া
আউজুবিকা মিন
ফিতনাতিদ দুনিয়া
ওয়া আজাবিল
কাবরি।’ (বুখারি
ও মিশকাত)
اَللَّهُمَّ اِنِّى
اَعُوْذُبِكَ مِن جَهْدِ الْبَلَاءِ وَ دَرَكِ الشَّقَاءِ وَ سُوْءِ الْقَضَاءِ وَ
شَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ
উচ্চারণ:
‘আল্লাহুম্মা
ইন্নি আউজুবিকা
মিন জাহদিল
বালায়ি ওয়া
দারাকিশ শাক্বায়ি
ওয়া সুয়িল
ক্বাজায়ি ওয়া
শামাতাতিল আ’দায়ি।’
اَللَّهُمَّ اكْفِنِىْ
بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِىْ بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
উচ্চারণ:
‘আল্লাহুম্মাকফিনি
বিহালালিকা
ওয়া হারামিকা
ওয়া আয়িন্নি
বিফাজলিকা আম্মান
সেওয়াকা।’
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইসলামের বরকতময় সময়গুলোর মধ্যে কিছু রাত রয়েছে, যেগুলো বান্দার আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন এবং দোয়ার মাধ্যমে নৈকট্য অর্জনের বিশেষ সুযোগ এনে দেয়। এসব রাত মানুষের অন্তরকে জাগ্রত করে, গাফিলতি ভেঙে দেয় এবং নতুনভাবে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার আহ্বান জানায়। ঠিক তেমনই এক তাৎপর্যপূর্ণ রাত হলো শাবান মাসের মধ্যরাত, যা মুসলিম সমাজে ‘শবে বরাত’ নামে সুপরিচিত।
এই রাতকে কেন্দ্র করে যুগে যুগে মুসলমানদের মধ্যে ইবাদত, দোয়া ও আত্মসমালোচনার একটি ধারাবাহিক ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে।
যদিও কোরআনে এ রাতের বিষয়ে সরাসরি কোনো বিধান নেই, তবে হাদিস ও সালাফে সালেহিনের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়—এটি দোয়া কবুল ও আল্লাহর রহমত লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে একই সঙ্গে এ রাতের আমল সম্পর্কে ভারসাম্য, সুন্নাহর অনুসরণ এবং অতিরঞ্জন পরিহার করাও অপরিহার্য।
নিম্নে নিসফা শাবানের রাতের ফজিলত, দোয়া কবুলের গুরুত্ব এবং এ রাতে পাঠযোগ্য কিছু মাসনুন দোয়া হাদিস ও প্রামাণ্য সূত্রের আলোকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো, যাতে একজন মুমিন সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই বরকতময় সময়কে কাজে লাগাতে পারেন।
নিসফা
শাবানের রাতের
দোয়া আল্লাহ
তাআলা কবুল
করেন। তাই বেশি বেশি দোয়া করা উত্তম। হাদিসে এসেছে- ‘আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, পাঁচটি রাত এমন আছে, যে রাতে বান্দার কোনো দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না। আর তা হলো-
১. জুমআর রাতের দোয়া।
২. রজব মাসের প্রথম রাতের দোয়া।
৩.
নিসফা শাবান
তথা অর্ধ
শাবানের রাতের
দোয়া।
৪.
ঈদুল ফিতর
তথা রোজার
ঈদের রাতের
দোয়া।
৫.
ঈদুল আজহা
তথা কুরবানির
ঈদের রাতের
দোয়া।’ (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক)
ইমাম
শাফেঈ রহমাতুল্লাহি
আলাইহি বলেন,
‘আমাদের কাছে
পৌঁছেছে যে,
পাঁচটি রাতে
দোয়া বেশি
বেশি কবুল
করা হয়।
জুমআর রাত,
ঈদুল আজহার
রাত, ঈদুল
ফিতরের রাত,
রজব মাসের
প্রথম রাত
এবং নিসফা
শাবান তথা
শাবানের ১৫তম
রাতের দোয়া।
’ (কিতাবুল
উম্ম, আস-সুনানুল
কুবরা)
তাই
এ গুরুত্বপূর্ণ
রাতে মহান
আল্লাহর অনুগ্রহ
লাভ করতে
নিচের দোয়াগুলো
বেশি বেশি
পড়তে পারেন-
رَبِّ أَوْزِعْنِىٓ
أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِىٓ أَنْعَمْتَ عَلَىَّ وَعَلٰى وٰلِدَىَّ وَأَنْ
أَعْمَلَ صٰلِحًا تَرْضٰىهُ وَأَدْخِلْنِى بِرَحْمَتِكَ فِى عِبَادِكَ
الصّٰلِحِينَ
উচ্চারণ:
রাব্বি আওঝি'নি
আন আশকুরা
নি'মাতাকাল্লাতি
আনআমতা আলাইয়্যা
ওয়া আলা
ওয়ালিদাইয়্যা
ওয়া আন
আ'মালা
সালেহাং তারদাহু
ওয়া আদখিলনি
বিরাহমাতিকা
ফি ইবাদিকাস
সালিহিন।' (সুরা
নামল : আয়াত
১৯)
اَللَّهُمَّ اِنِّى
اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ
وَالْبُخْلِ وَ ضَلَعِ الدَّيْنِ وَ غَلَبَةِ الرِّجَالِ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা
ইন্নি আউজুবিকা
মিনাল হাম্মি
ওয়াল হাযানি
ওয়াল আজযি
ওয়াল কাসালি,
ওয়াল জুবনি
ওয়াল বুখলি
ওয়া দালায়িদ
দাইনি ওয়া
গালাবাতিল রিজালি।’
(বুখারি ও
মুসলিম, মিশকাত)
اَللَّهُمَّ اِنِّى
اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَاَعُوْذُبِكَ مِنَ الْبُخْلِ وَاَعُوْذُبِكَ مِن
اَرْذَلِ الْعُمُرِ وَ اَعُوْذُبِكَ مِن فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَ عَذَابِ الْقَبْرِ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা
ইন্নি আউজুবিকা
মিনাল জুবনি
ওয়া আউজুবিকা
মিনাল বুখলি
ওয়া আউজুবিকা
মিন আরজালিল
উমুরি ওয়া
আউজুবিকা মিন
ফিতনাতিদ দুনিয়া
ওয়া আজাবিল
কাবরি।’ (বুখারি
ও মিশকাত)
اَللَّهُمَّ اِنِّى
اَعُوْذُبِكَ مِن جَهْدِ الْبَلَاءِ وَ دَرَكِ الشَّقَاءِ وَ سُوْءِ الْقَضَاءِ وَ
شَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ
উচ্চারণ:
‘আল্লাহুম্মা
ইন্নি আউজুবিকা
মিন জাহদিল
বালায়ি ওয়া
দারাকিশ শাক্বায়ি
ওয়া সুয়িল
ক্বাজায়ি ওয়া
শামাতাতিল আ’দায়ি।’
اَللَّهُمَّ اكْفِنِىْ
بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِىْ بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
উচ্চারণ:
‘আল্লাহুম্মাকফিনি
বিহালালিকা
ওয়া হারামিকা
ওয়া আয়িন্নি
বিফাজলিকা আম্মান
সেওয়াকা।’
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন